বরিশালে ৯৯৯-এ কল করে ফেঁসে গেল চোর নিজেই

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত জুন ১২ শনিবার, ২০২১, ০৮:৪২ অপরাহ্ণ
বরিশালে ৯৯৯-এ কল করে ফেঁসে গেল চোর নিজেই

বরিশালক্রাইমট্রেস ডেস্ক ॥ চোরাই মোটরসাইকেলের নিজের ভাগ বুঝে না পেয়ে ৯৯৯-এ কল করে ফেঁসে গেল চোর নিজেই। সেই সঙ্গে বেড়িয়ে এসেছে একটি চোর চক্র।

 

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চক্রটির চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

 

বরিশালের বাকেরগঞ্জে উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

 

এ চক্রে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তা শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাকেরগঞ্জে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলাউদ্দিন মিলন।

 

তিনি বলেন, আটক চারজনের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (১২ জুন) আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

তিনি আরো বলেন, চোরর ওপর বাটপারি করতে গিয়েছিলেন এ চক্রে একজন। আর তাতেই পুরো ঘটনাটি বেড়িয়ে এসেছে।

 

ওসি আলাউদ্দিন মিলন বলেন, ৯৯৯-এর একটি কল পেয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাইনুল ইসলাম ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ইমদাদুল বাকেরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি মোটরসাইকেল আটক করেন। এ সময় আটক চারজনই মোটরসাইকেলটির মালিকানা দাবি করেন। কিন্তু কেউই গাড়িটির ক্রয় সূত্রের মালিকানার প্রমাণ দেখাতে পারেনি।

 

আটক চারজন হলেন- বাকেরগঞ্জ উপজেলা ছাত্র সমাজের সভাপতি ফিরোজ আলমের ছেলে আবদুল্লাহ আল আজাদ (২১), বাকেরগঞ্জ পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের আমির আলী বেপারীর ছেলে মেহেদী হাসান শাকিল (২২), নলছিটি উপজেলার রাজনগর এলাকার হোসেন মল্লিকের ছেলে সাইদুল ইসলাম ইমরান (২২), পটুয়াখালীর বদরপুর ইউনিয়নের তেলিখালি এলাকার বেলায়েত হোসেন মৃধার ছেলে রিপন মৃধা (২৫)।

 

এ চারজন চোরাই মোটরসাইকেল ক্রয় করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। তারা যার কাছ থেকে মোটরসাইকেলটি ক্রয় করেছেন তিনিও পুলিশের কাছে বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি প্রথম চোরাই মোটরসাইকেলটি ক্রয় করেন। এরপর বাকেরগঞ্জের চোর চক্রের চার সদস্যের কাছে মোটরসাইকেল বিক্রি করেন তিনি।

 

শুক্রবার (১১ জুন) দুপুরে চারজনে বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হয়ে মোটরসাইকেলের ভাগাভাগি করছিলেন। ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে চক্রের সদস্য আব্দুল্লাহ আল আজাদ ও মেহেদী হাসান শাকিল মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যেতে পারেন এমন সন্দেহে ৯৯৯ নম্বরে কল করেন চোর চক্রের আরেক সদস্য সাইদুল ইসলাম ইমরান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেন।

 

এ সময় আটক চারজনই গাড়ির মালিকানা দাবি করেন।

 

ওসি আলাউদ্দিন মিলন আরো বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন দীর্ঘদিন ধরেই চোরাই মোটরসাইকেল ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করে আসছিলেন তারা। তাদের সঙ্গে আরো চার থেকে পাঁচ জন জড়িত আছেন। এছাড়াও উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি প্রথমে যিনি ক্রয় করছেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

 

 

এছাড়া মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিকের সন্ধান করছে পুলিশ বলে জানান ওসি আলাউদ্দিন।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]