লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে নানা অজুহাতে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ, সড়কে যানজট

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ১৫ বৃহস্পতিবার, ২০২১, ০২:০৫ অপরাহ্ণ
লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে নানা অজুহাতে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ, সড়কে যানজট

বরিশালক্রাইমট্রেস ডেস্কঃ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারি ঘোষণায় দেশে কঠোর লকডাউনের (বিধিনিষেধ) দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর সড়কে বেড়েছে রিকশা, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার সহ বিভিন্ন যানবাহন।

বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সকাল থেকে লকডাউন থাকা সত্ত্বেও মিরপুর ১০ নম্বর গোলচক্কর ও কুড়িল সহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে যানজট। নানা অজুহাতে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। স্বাস্থবিধিও মানছে না অনেকেই।

বিধিনিষেধের লকডাউনে রাজধানীর মোড়ে মোড়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। রিকশা, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার সব কিছুই থামিয়ে থামিয়ে জিজ্ঞেস করছেন, কে কোথায় যাবেন। যথাযথ কারণ বলতে পারলে গন্তব্যে যেতে দেয়া হচ্ছে। আর না বলতে পারলে পথ থেকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। দেখতে চাইছেন ‘মুভমেন্ট পাস’।

সরেজমিনে দেখা যায়, কেউ রাস্তায় বের হলেই পুলিশ জানতে চাইছে ‘মুভমেন্ট পাস’ আছে কি না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস থামিয়ে জানতে চাইছে কোথায়, কী কারণে বা কি কাজে বের হয়েছেন। যথাযথ কারণ বলতে পারলেই যাতায়াত করতে দিচ্ছে পুলিশ।

এছাড়া যদি কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া রাস্তায় মোটরসাইকেল, কভার্ডভ্যান ও পিকআপভ্যান বের করলে মামলা দিচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। প্রধান সড়কে কোনো রিকশা যাত্রী নিয়ে এলে, যাত্রী নামিয়ে রিকশা ঘুরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ।

এদিকে, সাধারণ মানুষদের ঘরে অবস্থান নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এবার মাঠে নেমে জরিমানা করছে র‍্যাব। লকডাউন চলাকালে সাধারণ মানুষকে ঘরের বাইরে বের হতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। বিনা প্রয়োজনে কেউ রাস্তায় বের হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বুধবার (১৪ এপ্রিল) ভোর ৬টা থেকে কঠোর লকডাউন (বিধিনিষেধ) শুরু হয়েছে, যা আগামী ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে। ওইদিন পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া যাবে না। তবে যাদের একান্তই প্রয়োজন তারা মুভমেন্ট পাস নিয়ে বের হতে পারবে।

মানতে হবে যেসব নির্দেশনা
১. সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে ও সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন। তবে বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থলবন্দর এবং এ সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।

২. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে। (আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ এবং দেশের অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে ভার্চুয়ালি সীমিত পরিসরে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট)।

৩. সকল প্রকার পরিবহন (সড়ক, নৌ, রেল, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে। তবে, পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এই আদেশ প্রযোজ্য হবে না।

৪. শিল্প-কারখানাগুলো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। তবে শ্রমিকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেয়া নিশ্চিত করতে হবে।

৫. আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন- কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর (স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিস, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।

৬. অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ঔষধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। তবে টিকা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে।

৭. খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোরর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ (সরাসরি/অনলাইন) করা যাবে। শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে।

৮. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। বাজার কর্তৃপক্ষ/স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

৯. বোরো ধান কাটার জরুরি প্রয়োজনে কৃষি শ্রমিক পরিবহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন সমন্বয় করবে।

১০. সারাদেশে জেলা ও মাঠ প্রশাসন উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল জোরদার করবে।

১১. স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক তার পক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেবেন।

১২. স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জুমা ও তারাবি নামাজের জমায়েত বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্দেশনা জারি করবে।

১৩. এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ প্রয়োজনে সম্পূরক নির্দেশনা জারি করতে পারে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃbarishalcrimetrace@gmail.com