মারণঘাতী করোনাভাইরাস আক্রান্তে এখন পর্যন্ত ৯০ পুলিশের মৃত্যু

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ১৫ বৃহস্পতিবার, ২০২১, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
মারণঘাতী করোনাভাইরাস আক্রান্তে এখন পর্যন্ত ৯০ পুলিশের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক:: মারণঘাতী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের ৯০ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জন র‌্যাবের সদস্য। মৃত্যুর সংখ্যা বেশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি)। উল্লেখ্য দেশে গত বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের ৮ মার্চ করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর একই বছর ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

 

এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে একটি অংশ চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সরকারি কর্মচারী ও গণমাধ্যমকর্মী, যাঁরা করোনাকালে সম্মুখসারিতে থেকে কাজ করেছেন।

 

পুলিশ সদর দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৮ এপ্রিল পুলিশে প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর থেকে এ পর্যন্ত পুলিশ বাহিনীতে করোনায় আক্রান্ত হন ২০ হাজার ২৯১ জন। বেশি আক্রান্ত হয়েছেন ডিএমপিতে, ৩ হাজার ৪১৩ জন। এরপরে রয়েছে র‌্যাব। করোনায় র‌্যাবের ২ হাজার ৬২৯ জন সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন।

 

সারা দেশে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ১৯ হাজার ৩৯৬ জনই সুস্থ হয়েছেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পুলিশ বাহিনীর ২৩৫ জন কোয়ারেন্টিনে (সঙ্গনিরোধ) ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন র‌্যাব সদস্য রয়েছেন।

 

করোনায় পুলিশে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গত বছরের ২৮ এপ্রিল। ওই দিন মারা যান কনস্টেবল জসিম উদ্দিন (৪০)। তিনি ডিএমপির ওয়ারী ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। সর্বশেষ মারা যান নরসিংদী পুলিশ লাইনসের পরিদর্শক (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান (৫৬)।

 

করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার পর গত ২০ মার্চ তাঁকে রাজধানীর রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ এপ্রিল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

 

করোনায় স্বজন হারানো পুলিশ সদস্যদের পরিবারগুলো শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি। কোনো কোনো পরিবার উপার্জনক্ষম সদস্যের মৃত্যুতে সংকটে পড়েছে। যেমন করোনায় মারা যাওয়া পুলিশ কনস্টেবল আবুল হোসেনের স্ত্রী মরজিনা আক্তার ক্যানসারে আক্রান্ত। আবুল হোসেন তাঁর স্ত্রীর ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালাচ্ছিলেন। গত বছর জুনে আবুল হোসেন মারা যাওয়ার পর পরিবারটি সংকটে

 

মরজিনা আক্তার মেয়েকে নিয়ে নেত্রকোনায় গ্রামের বাড়িতে থাকেন। বাবার পেনশনের টাকা দিয়ে চলতে হয়। তাঁর মেয়ে সৌরভী আক্তার মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাবা নেই, এখন খোঁজ নেওয়ারও কেউ নেই।’ এই বলেই তিনি কেঁদে ফেলেন।

 

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অপরাধী ধরতে অভিযান, বিধিনিষেধকালে সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে ঘরে পাঠানো, দেশে ফেরা প্রবাসীদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা, দুস্থদের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো, করোনায় মৃত ব্যক্তিদের দাফনে সহযোগিতা করা, হাসপাতালে চিকিৎসা পেতে সাহায্য করার মতো মানবিক কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ।

 

পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব এড়ানো অথবা ঘরে বসে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। এ কারণে করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশের কাজ চালিয়ে নিতে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করেছে পুলিশ। এসওপি অনুযায়ী, কাজের সময় প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের জন্য মাস্ক বাধ্যতামূলক।

 

হাসপাতালে রোগী নেওয়া বা লাশ দাফনের সময় ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী বা পিপিই পরতে হবে। জনসমাগমস্থলে দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। জীবাণুনাশক দিয়ে হাত পরিষ্কার রাখতে হবে। সুষম খাবার খেতে হবে এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে।

 

পুলিশ সদর দপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি-গণমাধ্যম ও পরিকল্পনা) হায়দার আলী খান সাংবাদিকদের বলেন, গত বছর দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর অনেক পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হন। পরে তা ব্যারাকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এখন পুলিশের মধ্যে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

 

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, শুরুর দিকে পুলিশ সদস্যরা সব ধরনের ব্যবস্থাপনা ও কাজে যুক্ত ছিলেন। পরে পুলিশ করোনা সংক্রমণের বিষয়গুলো বুঝতে পেরে সতর্কতা অবলম্বন শুরু করে। এ কারণে আক্রান্তের হার কিছুটা কমেছে।’




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]