গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কলাপাড়ায় আশ্রয়ন-২ প্রকল্পে হরিলুট’র তদন্ত শুরু

Barisal Crime Trace -HR
প্রকাশিত এপ্রিল ১৯ সোমবার, ২০২১, ০৭:১৫ অপরাহ্ণ
গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কলাপাড়ায় আশ্রয়ন-২ প্রকল্পে হরিলুট’র তদন্ত শুরু

এস এম আলমগীর হোসেন, কলাপাড়া ।। গনমাধ্যমে ’কলাপাড়ায় আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দে হরিলুট’ শীর্ষক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর মাঠ পর্যায়ে তদন্তে নেমেছে প্রশাসন।

রবিবার দুপুরে উপজেলার ধূলাসার ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জিএম সরফরাজ।

তবে এ তদন্তের সময় উপকারভোগীদের তালিকা তৈরী ও ঘর বরাদ্দে অনিয়মের সাথে জড়িতরা উপস্থিত ছিলেন। আর তদন্তকারী কর্মকর্তা বললেন প্রকল্প পরিচালকের নির্দেশনায় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

গনমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লিখিত ভুক্তভোগীদের লিখিত বক্তব্য গ্রহন করা হচ্ছে।

এগুলো যাচাই বাছাই করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকল্প পরিচালকের বরাবরে প্রেরন করা হবে।

এদিকে আশ্রয়ন প্রকল্পের আড়াই কোটি টাকা লোপাটের তথ্য গনমাধ্যমে প্রকাশের পর ধূলাসার ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামের ভুক্তভোগী বাদলকে মুঠো ফোনে কলাপাড়া ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক তার সাথে সন্ধ্যায় দেখা করতে বলেন।

এছাড়া তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সত্যতা প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী বাদলকে তিনি টিউবওয়েল সহ সকল সরকারী সেবা-সুবিধা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে আশ্বস্ত করে ঘর পেতে টাকা পয়সা দেওয়ার কথা না বলার জন্য অনুরোধ করেন, যার অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত।

এর আগে ধানখালী ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার, লালুয়া ইউপি চেয়ারম্যান তপন বিশ্বাস ও মিঠাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান হেমায়েত উদ্দিন হিরন কাজী বাদলকে বালিয়াতলী ডেকে নিয়ে ঘর বরাদ্দে টাকা দেওয়ার কথা না বলতে অনুরোধ করা সহ নানা ভাবে আর্থিক প্রলোভন দেখায়। এবং ধূলাসার ইউপি চেয়ারম্যান আ: জলিল আকন মুঠো ফোনে তদন্ত কর্মকর্তার সামনে কিছু না বলতে বলা সহ ঘর তৈরীতে ব্যবহৃত পঁচা ইট সরিয়ে রাখতে অনুরোধ করেন।

এরপর রবিবার কলাপাড়া ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক, পিআইও মো: হুমায়ুন কবির, সিপিপি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান সহ উল্লিখিত চার চেয়ারম্যান তদন্ত কর্মকর্তার সাথে উপস্থিত থাকলেও ভুক্তভোগী বাদল তদন্ত কর্মকর্তার কাছে নির্ভয়ে ঘর বরাদ্দে টাকা পয়সা লেনদেন সহ নিম্ন মানের উপকরন সামগ্রী ব্যবহারের সত্যতা তুলে ধরেন।

পটুয়াখালী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জিএম সরফরাজ আলী সাংবাদিকদের বলেন, ’প্রকল্প পরিচালক মহোদয়ের নির্দেশনায় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

গনমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লিখিত ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গ্রহন করা হচ্ছে।

গতকাল কলাপাড়ার ধূলাসার ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে, যা চলমান আছে। এগুলো যাচাই বাছাই করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকল্প পরিচালকের বরাবরে প্রেরন করা হবে।’

প্রসংগত, ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য গৃহ প্রদান নীতিমালা ২০২০’র আলোকে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের উপকারভোগীদের নামের তালিকা নির্ভূল ভাবে সম্পন্ন করার বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি।

ঘরের নির্মান সামগ্রী পরিবহনে প্রথম ধাপে ৪৫০টি ঘরের বিপরীতে পরিবহন ও জ্বালানি খরচের ১৮ লক্ষ ২৫ হাজার এবং দ্বিতীয় ধাপে ১১০টি ঘরের বিপরীতে পরিবহন ও জ্বালানি খরচের ৫ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা সহ
মোট ২৩ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ৫৬০টি বরাদ্দকৃত ঘরের জন্য উপকারভোগী প্রতি ৩০/৪০ হাজার টাকা হারে প্রায় ২ কোটি টাকা উত্তোলন করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এ নিয়ে প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী’র কাছে রেজিষ্ট্রী ডাক যোগে আবেদন করেছেন ধূলাসার ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামের এক ভুক্তভোগী।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]