ভোলায় বনবিভাগের পরিত্যক্ত খাসজমিতে ঠাঁই চান ক্ষতবিক্ষত উপকূলীয় মানুষেরা

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ২৩ শুক্রবার, ২০২১, ১২:৪১ অপরাহ্ণ
ভোলায় বনবিভাগের পরিত্যক্ত খাসজমিতে ঠাঁই চান ক্ষতবিক্ষত উপকূলীয় মানুষেরা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতবিক্ষত উপকূলীয় দ্বীপ ইউনিয়ন ঢালচর। গত কয়েক বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে ভোলার সাগরকূলের পর্যটন দ্বীপ ঢালচর।

 

 

উত্তাল মেঘনার হুঙ্কারে তটস্থ এখন ঢালচর দ্বীপের মানুষ। গৃহহীন হয়েছে প্রায় ১৫শ পরিবার। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের ভাঙনে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে সালাম হাওলাদারের বাজার, টাওয়ার বাজার, মুজিব কিল্লা, সাতটি মসজিদ এবং আবাসন প্রকল্পের সাতটি ব্র্যাক হাউস। সাগর মোহনায় চরটির অবস্থান থাকায় ভাঙন রোধে তেমন কিছুই করার নেই বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

 

এদিকে ভাঙনে সহায় সম্বলহারা মানুষগুলো পরেছে চরম বিপাকে। পরিবার পরিজন নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন গৃহস্থ বাড়ি ও উচু রাস্তায়। জমির অভাবে নতুন করে ঘরবাড়ি করতে পারছে না ভাঙ্গন কবলিতরা। ওই চরে প্রায় ২ হাজার একর জমি অনাবাদি পড়ে থাকলেও বন বিভাগের বাঁধার কারণে ক্ষতিগ্রস্তরা বসতি গড়তে পারছে না।

 

ঢালচরের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম হাওলাদার জানান, ঢালচর থেকে তারুয়া পর্যন্ত জেগে উঠা চাষযোগ্য ৪২শ’ একর জমির বয়স প্রায় ৫০ বছর। অর্ধশত বছর আগে জেগে উঠা বিশাল বিস্তৃত এই জমি নিজেদের দাবি করে বনবিভাগ আটকে রাখলেও কোন বনায়ন করেনি, এখন চাষযোগ্য এই জমি বনায়নের যোগ্যও নয়। এছাড়াও পূর্ব ঢালচরে ১৫শ’ একর জমি কৃষকদের নামে বন্দোবস্ত দেয়া হলেও বনবিভাগের হামলা মামলার কারণে কৃষকরা সেই জমিতে যেতে পারেনি।

 

ভূমিহীন কৃষক আব্দুল কালাম মেম্বার জানান, ঢালচরের পূর্বাশং মেঘনায় ভাঙ্গনের ফলে  গৃহহীন ১৫শ’ পরিবার দক্ষিণ-পশ্চিম ঢালচরের পরিত্যক্ত চাষযোগ্য ২৭শ’ একর জমি বন্দোবস্ত চেয়ে আসছে। বনবিভাগের বাঁধার কারণে ভূমিহীন কৃষকরা ১৯৮৬ সনে ভোলা সাব জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন।  এই আদালত ২০১৯ সনে দোতরফা সূত্রে ভূমিহীন কৃষকদের অনুকূলে বন্দোবস্ত দেয়ার জন্য  রায় প্রদান করেন। এই রায়ের প্রেক্ষিতে  ২০২০ সনে ২৭২৭.২৭ একর জমি  ভোলা জেলা প্রশাসক ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে ওই জমি বন্দোবস্ত প্রদানের নির্দেশ দেন। এই নির্দেশ প্রাপ্তির পর চরফ্যাশন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঢালচরের ৪২শ’ একর জমির সীমানা নির্ধারণ করে বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া শুরু করেন। সে সময় কিছু কিছু ভূমিহীন কৃষক পরিবার ওই জমিতে ঘর নির্মাণ করে বসতি শুরু করেন।

 

এই বসতি উচ্ছেদের জন্য বনবিভাগ ওই পরিবারগুলোর ওপর হামলা ও মামলা দিয়ে নানানভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। সে থেকে ঢালচরের চাষযোগ্য ২৭শ’ একর এবং পূর্ব ঢালচরের চাষযোগ্য ১৫শ’ একর জমি পরিত্যক্ত পড়ে আছে, যা বনবিভাগের কোনো কাজে লাগেনি আবার ভূমিহীন গৃহহীন কৃষকদেরও আশ্রয়ের ঠিকানা হতে পারেনি।

 

ঢালচরের বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আলাউদ্দিন জানান, পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম ঢালচরে ৪২শ’ একর খাসজমি পরিত্যক্ত আছে, যেখানে ঢালচরের মেঘনার ভাঙনে আশ্রয়হীন সব পরিবারের বসতি সম্ভব। কিন্ত বনবিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ছাড়া আমার একার পক্ষে কিছুই করা সম্ভব না।

 

চরফ্যাশন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিপন বিশ্বাস জানান, বিষয়টি নিয়ে যেহেতু ভূমি মন্ত্রণালয় ও বন মন্ত্রণালয়ের টানাপোড়ন রয়েছে; সেহেতু উভয় মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মতে আমরা যে নির্দেশনা পাব সে অনুযায়ী কাজ করে যাব।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]