ঘুষ হিসেবে আসামির গাড়ি ব্যবহার করছেন এএসপি দম্পতি

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ২৭ মঙ্গলবার, ২০২১, ০৮:৫৭ অপরাহ্ণ
ঘুষ হিসেবে আসামির গাড়ি ব্যবহার করছেন এএসপি দম্পতি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বগুড়ার শিবগঞ্জে ৮৮ বোতল ফেনসিডিল বিক্রির ঘটনায় মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আটজনকে বদলি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা এ আদেশ দেন। বদলির আদেশ মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে এসে পৌঁছেছে।

 

এদিকে, সদ্য প্রত্যাহার হওয়া সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী ও তার স্ত্রী ডা. শারমিন সুলতানা বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আসামির দেওয়া প্রাইভেটকার ব্যবহারের অভিযোগ ওঠেছে।

 

মামলার বাদীর অভিযোগ, আসামিদের কাছ থেকে প্রাইভেটকার ঘুষ হিসেবে নিয়েছেন এএসপি আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী। আর মামলার আসামি রাসেল মাহমুদ সবুজের দাবি, ঘুষ না, গাড়িটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে এএসপি আরিফুল ইসলামের স্ত্রী ডা. শারমিন সুলতানাকে।

 

আসামির দেওয়া গাড়ি ব্যবহার নিয়ে বগুড়ার শিবগঞ্জে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ কারণেই হত্যা মামলাটি পুলিশ সুপারের আদেশে শিবগঞ্জ থানা থেকে ডিবি পুলিশের কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার দাড়িদহ বন্দরে হাইস্কুলের সামনে প্রতিপক্ষের মারপিটে আহত হন কৃষকলীগ নেতা আজহারুল ইসলাম নান্টু (৩৫)।

 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল বাছেদ মন্ডল বাদী হয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি শিবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়।

 

 

বাদী অভিযোগ করেছেন, সার্কেল এএসপি আরিফুল ইসলাম এবং মামলার ২ নম্বর আসামি বিএনপি নেতা মাহবুবর আলম মানিক বগুড়ার উপশহরে একই ভবনে বসবাস করেন। সেই সুবাদে তাদের মধ্যে সখ্যতা রয়েছে।

 

মামলার ৩ নম্বর আসামি রাসেল মাহমুদ সবুজ ২ নম্বর আসামির বিএনপি নেতা মাহবুবর আলম মানিকের ভাগ্নে। মামা ভাগ্নে যৌথভাবে সার্কেল এসপিকে সাড়ে আট লাখ টাকায় প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-২৫-১৮৫৪) কিনে দিয়েছেন। সেই গাড়িটি সার্কেল এএসপির স্ত্রী ব্যবহার করেন।

 

 

বাদী আব্দুল বাছেদ বলেন, ‘আসামিদের কাছ থেকে গাড়ি কিনে নেওয়ার বিষয়টি পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অভিযোগ দিয়েছি। সার্কেল এএসপি গাড়ি ঘুষ নিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে দেননি।’

 

 

একই অভিযোগ করেন শিবগঞ্জের ময়দানহাটা ইউপি চেয়ারম্যান এসএম রুপম। তিনি বলেন, হত্যা মামলার আসামিদের কাছ থেকে সার্কেল এএসপি গাড়ি উপহার নেওয়ার বিষয়টি শিবগঞ্জের মানুষ সবাই জানেন। তার স্ত্রী ডা. শারমিন টিএএমএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই গাড়িতেই যাতায়াত করেন।

 

 

এ ছাড়া একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে, এএসপি আরিফুল ইসলাম নিজেই ঢাকা মেট্রো-গ-২৫-১৮৫৪ নম্বরের গাড়ি চালিয়ে তার স্ত্রীকে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নামিয়ে দিচ্ছেন।

 

 

এ বিষয়ে শিবগঞ্জের সাবেক সার্কেল এএসপি আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বাদীপক্ষের এই অভিযোগ অসত্য। এখন চেয়ারে নাই, অনেকেই অনেক কথা বলবেন। বিআরটিএ অফিসে খোঁজ নিলেই জানা জানা গাড়িটি কার।’

 

 

এ বিষয়ে মামলার আসামি রাসেল মাহমুদ সবুজ বলেন, ‘আমি রেন্টে কারের ব্যবসা করি। গাড়িটি ঘুষ কিংবা উপহার দেওয়া হয়নি। মাসিক ২০ হাজার টাকা চুক্তিতে এএসপি আরিফুল ইসলামের স্ত্রী ডা. শারমিন সুলতানাকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।’

 

 

এদিকে, বিআরটিএ অফিসে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ঢাকা মেট্রো-গ-২৫-১৮৫৪ নম্বরের গাড়িটির মালিকানা রংপুর শহরের কামাল কাচনা এলাকার আবুল কালামের ছেলে আকতারুজ্জামানের নামে। তিনি বলেন, গাড়িটি তিনি রংপুর শহরের আরমান কার হাউসের মাধ্যমে সাড়ে আট লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন।

 

আরমান কার হাউসের স্বত্বাধিকারী লেলিন জানিয়েছেন, মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে গাড়িটি কিনেছেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার রাসেল মাহমুদ সবুজ নামের এক ব্যক্তি। তবে এখনো গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন হয়নি।

 

 

অভিযোগের বিষয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশারফ ভুঞা বলেন, ‘নান্টু হত্যা মামলা নিয়ে এ ধরনের অভিযোগ শুনেছি। এ কারণে মামলাটি থানা পুলিশের কাছ থেকে ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।’

 

বদলির আদেশে এসআই আনিছুর রহমানকে সোনাতলা, এএসআই মিজানকে সারিয়াকান্দি, কনস্টেবল যথাক্রমে মিজানুর রহমানকে দুপচাঁচিয়া, কিবরিয়াকে সারিয়াকান্দি,

 

 

অরুপকে বগুড়া ছিলিমপুর পুলিশ ফাঁড়ি, মিলন রহমানকে আদমদীঘি থানায়, সজিব রহমানকে গাবতলী থানার বাগবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে, মোজাফফর আলীকে গাবতলী থানায় বদলি করা হয়। এর আগে সার্কেল অফিসের কনস্টেবল আলাউদ্দিনকে নন্দিগ্রাম থানার কুমিড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বদলি করা হয়।

 

এসআই আনিছুর রহমান ও সার্কেল অফিসের কনস্টেবল আলাউদ্দিন নিজেই বদলির আদেশের তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

 

উল্লেখ্য, ফেনসিডিল বিক্রির ঘটনায় গত ২১ এপ্রিল শিবগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুর ইসলাম সিদ্দিকীকে প্রত্যাহার করে বরিশাল রেঞ্জ অফিসে বদলি,

 

মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ শাহিনুজ্জামান শাহিনকে ওয়্যার হেড কোয়ার্টারে এবং মামলার বাদী এসআই সুজাউদ্দৌলাকে বগুড়া পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়।

 




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]