চরফ্যাসনে মসজিদের জমি দখল করে মার্কেট নির্মান করছে প্রভাবশালীরা

Barisal Crime Trace -HR
প্রকাশিত এপ্রিল ২৯ বৃহস্পতিবার, ২০২১, ০৮:১১ অপরাহ্ণ
চরফ্যাসনে মসজিদের জমি দখল করে মার্কেট নির্মান করছে প্রভাবশালীরা

চরফ্যাসন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ প্রায় ২কোটি টাকার মসজিদ ও ঈদগাহের জমি জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্য দুলাল মেম্বার এর বিরুদ্ধে। তিনি চরফ্যাসন উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

 

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ৪০ শতাংশ জমি মসজিদ ও ঈদগাহের জন্য স্থানীয় দানবীর মিনহাজ উদ্দিন তালুকদার গং প্রায় ৬৫ বছর পূর্বে দান করেন।

 

দানকৃত ওই জমি ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে জিন্নাগড় ইউনিয়নের ইউপি সদস্য দুলাল মেম্বার ও তার সেনা সদস্য ভাই মোসলেম সহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা একত্রিত হয়ে বাজার মার্কেট নির্মাণে জবর দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ কার্যক্রম চালাচ্ছে।

 

মসজিদের স্থানীয় একাধিক মুসল্লী ও এলাকাবাসী জানান, মৃত ফজলুল হক মাস্টার গং থেকে মৃত মিনহাজ উদ্দিন তালুকদার গং ৪০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন।

 

পরে ওই জমি মিনহাজ গংরা কাশেমগঞ্জ বাজার মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠের জন্য দান করেন। দীর্ঘদিন ধরে মসজিদ ও ঈদগাহের ওই জমি দখলে থাকলেও সম্প্রতি ইউপি সদস্য দুলাল গংরা ওই জমিতে অবস্থিত মসজিদের পুকুরের উত্তর প্রান্তে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণে গাইড ওয়ালসহ পাকা স্থাপনা নির্মাণে কাজ করছে।

 

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান বলেন, আমার পিতা মিনহাজ উদ্দিন তালুকদার মসজিদ ও ঈদগাহকে ৪০ শতাংশ জমি দান করেছেন।

 

ইউপি সদস্য দুলালের ভাই রংপুর কেন্টনমেন্টে সার্জেন্ট পদে কর্মরত মোসলেম বলেন, আমার আত্মীয় স্বজনরা এই জমি দান করেছে।

 

এই জমিতে মার্কেট নির্মাণে এবং মার্কেটের সৌন্দর্য বর্ধনে জমি নেয়া হলেও মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং চরফ্যাসন থানার ওসির সমঝোতায় কিছু টাকার বিনিময়ে ওই জমিতে আমরা স্থাপনা নির্মাণ করছি।

 

ইউপি সদস্য দুলাল মুঠোফোনে জানান, ঈদগাহ মাঠ কমিটির সঙ্গে সমঝোতায় কাজ করছি।

 

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. হোসেন মিয়া বলেন, দুলাল গং ওই জমির বিনিময়ে অন্য জায়গা দিয়ে ইদগাহ মসজিদের টয়লেটের জন্য ৫ শতাংশ জমি দিচ্ছে। ঈদগাহ কমিটিকে কিছু টাকাও দিবে। এই শর্তে দুলালরা সেখানে মার্কেট নির্মাণ করছে।

 

তবে চরফ্যাসন থানার ওসি ব্যস্ত থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

 

ঈদগাহ ও মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক বলেন, দুলাল মেম্বার গং কিভাবে মার্কেট নির্মাণ করছে এটা আমার জানা নেই। আমি বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন কিছু টাকা দিয়ে দিবে। এর বাহিরে আমি কিছু জানিনা।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]