ভান্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধিঃ পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ) আসনে এবারের নির্বাচন ঘিরে
তৈরি হয়েছে ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক চিত্র। একই পরিবারের দুই সহোদর এবার ভিন্ন রাজনৈতিক দলে থেকে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বড় ভাইয়ের বিপক্ষে ছোট ভাইয়ের এই লড়াই স্থানীয় রাজনীতিতে বাড়তি উত্তেজনা যোগ করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা দুই ভাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এলাকায় পরিচিত মুখ। তবে ভিন্ন দলে প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনী মাঠে তারা এখন মুখোমুখি।
দুই সহোদরের মধ্যে বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন ভা-ারিয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও বিএনপি নেতা মাহমুদ হোসেন। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও এলাকায় তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক
সম্পৃক্ততা, ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক তৎপরতার কারণে তিনি একজন পরিচিত মুখ হিসেবে বিবেচিত। স্থানীয় পর্যায়ে তার নিজস্ব সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে, যারা তাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও সক্রিয়ভাবে সমর্থন দিচ্ছেন।
অন্যদিকে একই সংসদীয় আসনে তার আপন ছোট ভাই মো. মাহিবুল হোসেন জাতীয় পার্টি (জেপি) থেকে মনোনয়ন পেয়ে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি জাতীয় পার্টি (জেপি) ভা-ারিয়া উপজেলা শাখার কার্যনির্বাহী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবংদীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মকা-ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
একই পরিবারের দুই সহোদরের ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান এবং আলাদা দলীয় পরিচয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে যেমন কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তেমনি রাজনৈতিক অঙ্গনেও চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে নির্বাচনের সমীকরণ এবার কিছুটা জটিল হয়ে উঠেছে। একদিকে পারিবারিক সম্পর্ক, অন্যদিকে দলীয় আনুগত্য ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা সব মিলিয়ে ভোটারদের সিদ্ধান্তে নানা বিষয় প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে পিরোজপুর-২ আসনের ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা ও আগ্রহ দুটোই বাড়ছে।
উল্লেখ্য পিরোজপুর-২ আসনে ভান্ডারিয়ার সমভ্রান্ত মিয়া পরিবার থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জেপি)’র চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হাসেন মঞ্জু নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে তার আপন দুই চাচাত ভাই বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত মাহামুদ হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে এবং তারই আপন ছোট ভাই মো. মাহিবুল হোসেন জাতীয় পার্টি (জেপি) মনোনীত প্রার্থী হয়ে একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে দুই সহোদর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয় এলাকায় তুমুল আলোচনা চলছে।