নিজস্ব প্রতিবেদক : সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে ভিপি মৃদুল দেওয়ানের ছাত্রদলে যোগদানের ঘটনায় ক্যাম্পাসে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্র থেকে “অরাজনৈতিক বিশ্ববিদ্যালয়” শব্দগুচ্ছটি প্রত্যাহারের পাশাপাশি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের গঠনতন্ত্রের ১৭ নং অনুচ্ছেদে ‘ছাত্র সংসদের সদস্যপদ বাতিল’ সংক্রান্ত বিধানে সুনির্দিষ্টভাবে বলা আছে: ধারা ১৭.১ (খ): “কোন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনে যোগ দিলে অথবা ঐ সংগঠনের কোন পদে নির্বাচিত বা মনোনীত হইলে তাহার সদস্য পদ সরাসরি বাতিল হইবে।
ছাত্র সংসদের ভিপি মৃদুল দেওয়ান সরাসরি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে দলে যোগ দেওয়ায় এই ধারা অনুযায়ী তিনি বর্তমানে গাসাসুর সদস্য থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের প্রতারণা ও দ্বিমুখী আচরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের দাবির মূল কারণগুলো হলো: প্রশাসন যখন নথিপত্রে বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘অরাজনৈতিক’ হিসেবে প্রচার করে, তখন ছাত্র সংসদের শীর্ষ নেতার প্রকাশ্য দলীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ সেই দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে।
অনেক অভিভাবক ক্যাম্পাসে রাজনীতির প্রভাব নেই ভেবে সন্তানদের এখানে ভর্তি করান। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করছে শিক্ষার্থীরা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, যেহেতু গকসুর গঠনতন্ত্রে রাজনৈতিক যোগদানের কারণে পদ বাতিলের বিধান রয়েছে, তাই প্রশাসনকে হয় এই আইন কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে, না হয় ‘অরাজনৈতিক’ তকমা প্রত্যাহার করতে হবে।
গকসু ভিপি মৃদুল দেওয়ানের ছাত্রদলে যোগদানের পর থেকেই ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুমুল সমালোচনা চলছে। ক্যাম্পাসের অন্যান্য ছাত্র প্রতিনিধিরা ফেসবুক পোস্ট এর প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, প্রশাসন যদি দ্রুত এই “প্রতারণামূলক” শব্দ প্রত্যাহার না করে এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বড় আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
এ বিষয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আবুল হোসেন এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ভিপির ছাত্রদলে যোগ দেওয়ার বিষয় তিনি অবগত নন। যদি কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করে তখন গঠনতন্ত্র পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।