নিজস্ব প্রতিবেদক : জামায়াত ক্ষমতায় আসলে নারীরা সবচেয়ে নিরাপদ থাকবে উল্লেখ করে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, যাদের হাতে নিজেদের নেতাকর্মীরা নিরাপদ না তাদের হাতে কিভাবে দেশ নিরাপদ থাকবে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর ফুটবল মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি সভায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।
সাদিক কায়েম বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়। জামায়াত ক্ষমতায় আসলে দেশের মানুষের জানমাল, সম্পদের নিরাপত্তা দেবে। তাই ১২ ফেব্রুয়ারি ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে ভোট দিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ দিন। বিগত সময়ে সাতক্ষীরায় চরম জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটে সাতক্ষীরার চারটি আসন জামায়াতের আমীরের নেতৃত্বকে উপহার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সাদিক কায়েম আরও বলেন, জামায়াতের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের বন্দোবস্ত হবে, যেখানে হিংসা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির কোনো জায়গা থাকবে না। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে ৫৪ বছরের মাফিয়া শাসন ও অনিয়মের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে একটি রাজনৈতিক দল নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে শতাধিক নেতাকর্মী হারিয়েছে তারা কিভাবে দেশের মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পারবে? পারবে না। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী জুলাই পরবর্তী সময়ে মানুষের পাশে থেকে নিরাপত্তার হাত বাড়িয়েছে, আগামীতে জামায়াত সরকার গঠন করলে আমার মায়েরা বোনেরা নিরাপদে চলতে পারবে, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি উন্নয়নে সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা হবে ইনশাআল্লাহ।
শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মাও. আব্দুল হালিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম। প্রধান বক্তা ছিলেন খুলনার জামাতের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী, জেলা জামায়াতের আমীর শহীদুল ইসলাম মুকুল, সেক্রেটারি আজিজুর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা শ্যামনগরকে উপকূলীয় দুর্যোগপ্রবণ জনপদ উল্লেখ করে মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থাকায় দাবি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও উপকূল সুরক্ষা নিশ্চিত করা। উপকূলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদীভাঙন প্রতিরোধ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আধুনিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ ও পাশাপাশি রেললাইন স্থাপন, সুন্দরবনকে পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর, রাস্তাঘাট সংস্কার, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন।