নিজস্ব প্রতিবেদক: পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২৫ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে অধিকাংশই জামায়াতের কর্মী। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আনিচুর রহমান (৫৫) এবং সেক্রেটারি মো. আমিনুল। গুরুতর আহত লিয়া জাহান (২৫), জামাল মৃধা (২২) ও দেলোয়ার হোসেন গাজীকে (৪৫) প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে দেলোয়ার হোসেন ছাড়া বাকি দুজন জামায়াতের কর্মী।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল খানকা এলাকা থেকে জামায়াতের মিছিল শুরু হলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পেছন থেকে দেশি অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে জামায়াতের মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে বিকেলে উপজেলা সদরে ফের বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টায় শফিকুল ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা চরওয়াডেল খানকা এলাকা থেকে মিছিল শুরু করেন। বেলা ১টার দিকে ভান্ডারি বাজারে পৌঁছালে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের নেতা আনোয়ার হাওলাদার ও কালাম হাওলাদারের নেতৃত্বে ৪০–৫০ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পেছন থেকে হামলা চালায়। মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ হয়। ওই সময় কমপক্ষে ৪০ জন আহত হন।
পরে বিকেল পৌনে চারটায় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা বাউফল সদর হাসপাতাল সড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় বিএনপি প্রার্থীর সমর্থক শামীমকে জামায়াত কর্মীরা চড়থাপ্পড় দিয়ে মুঠোফোন ছিনিয়ে নেন। খবর পেয়ে বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা ঘটনাস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ ও ধাওয়া হয়। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হন।
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম বলেন, মিছিল শেষের পথে পেছন দিক থেকে হামলা চালিয়ে নেতা-কর্মীদের আহত করা হয়েছে। এটি ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হামলা। জড়িতদের গ্রেফতার না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না।
এই বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আনোয়ার হোসেন ও শ্রমিক দল নেতা কামাল হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে তাঁদের জড়িত নন বলে জানিয়েছেন।
হামলার ঘটনায় আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারালে একের পর এক সহিংস ঘটনা ঘটতেই থাকে। এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে অবিলম্বে ওসিকে প্রত্যাহার এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।
এদিকে ঘটনার পর জামায়াত কর্মী-সমর্থকরা বাউফল থানার সামনে ওসির প্রত্যাহারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন। এসময় তারা স্লোগান দিতে থাকেন। এই মুহুর্তে উপজেলা সদরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বাউফল থানার ওসি মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গুরুত্বসহকারে দেখছে।