স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ ট্রেডিং কর্পোরেশনের (টিসিবি) পণ্য বিক্রি না করে উল্টো অবৈধভাবে মজুদ রেখে নিজ দোকানে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বরিশাল নগরের লুৎফর রহমান সড়কের ‘মা ভ্যারাইটিজ স্টোরে’ এসব টিসিবি পণ্য মজুদ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এখানকার মজুদদার হলেন- মিরাজুল ইসলাম ওরফে ইভান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিরাজুল ইসলাম ওরফে ইভান বরিশাল নগরের ২৯নং ওয়ার্ড লুৎফর রহমান সড়কের বাসিন্দা হলেও ১নং ওয়ার্ড কাউনিয়া এলাকায় তিনি টিসিবি পণ্য ট্রাক সেল কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
টিসিবি পণ্য ট্রাক সেল কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে গত শনিবার সকালে কাউনিয়া এলাকায় আনুমানিক ১ ঘন্টা টিসিবি পণ্য ট্রাক সেল কার্যক্রম পরিচালনা করার পর টিসিবি পণ্য না থাকার অজুহাত দেখিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তিনি।
সেদিন মিরাজুলের গতিবিধি সন্দেহ হলে তার পিছু নেয় কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা। একপর্যায়ে মিরাজুলকে অনুসরণ করে ভুক্তভোগীরা বরিশাল নগরের লুৎফর রহমান সড়কের মা ভ্যারাইটিজ স্টোরের সামনে গিয়ে দেখেন,সেখানে ওই ট্রাক সেলের টিসিবি পণ্য মজুদ রাখা হয়েছে।মজুদের বিষয়টি ভুক্তভোগীরা হাতেনাতে ধরলে মিরাজুল এসময়ে চুপসে যান। একপর্যায়ে মজুদের বিষয়টি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করলে ভুক্তভোগীদের হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা ও রিকশাওয়ালা আবদুল মতিন বলেন, সেদিন সকাল থেকে রোদে পুড়ে লাইনে দাড়িয়ে ছিলাম, টিসিবির পণ্য কেনার আশায়। কিন্তু ১ ঘন্টার মধ্যেই মাল না দিয়ে ট্রাক নিয়ে সটকে পড়েছে ডিলার।রোজার মাসেও তাদের এমন অপকর্ম করা লাগে?
একই এলাকার ভিক্ষুক মঞ্জুয়ারা বেগম বলেন- টকা নাই পয়সা নাই,ধারদেনা করে টিসিবি পণ্য কিনতে গিয়েছিলাম। তা-ও আবার ভাগ্যে জুটলো না।
এদিকে নিজ দোকানে পণ্য মজুদ করার একটি ভিডিও এসেছে এ প্রতিবেদকের হাতে। যা সংরক্ষিত রয়েছে।
তবে নিজ দোকানে টিসিবির পণ্য অবৈধভাবে মজুদের বিষয় নিয়ে কথা হলে মোঃ মিরাজুল ইসলাম ওরফে ইভান বলেন,আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে এসেছিলেন টিসিবি কতৃপক্ষ। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পায়নি তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
এদিকে টিসিবির বরিশাল রিজিওনাল অফিসের সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার শতদল মন্ডল বলেন, মিরাজুল ইসলাম ওরফে ইভানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর তার ডিলারশিপ লাইসেন্স সাময়িক ভাবে বাতিল করা হয়েছে। তাছাড়া ডিলার মিরাজুল যে বলেছেন আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম এবং তদন্তে কিছুই পাইনি, এটা মিথ্যা কথা।