নিজস্ব প্রতিবেদক : উপকূলীয় জেলা বরগুনায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে হামের উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বরগুনা সদর উপজেলায় ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে উপজেলার ৪০টি কেন্দ্রে একযোগে এ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। এর মধ্যে বরগুনা পৌরসভায় ২৫টি কেন্দ্র এবং উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নের ১৫টি কেন্দ্রে শিশুদের টিকা প্রদান করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচি টানা ২১ দিন চলবে এবং টিকার কোনো ঘাটতি নেই।
সকাল থেকেই বিভিন্ন টিকাকেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে ভিড় করেন অভিভাবকরা। সন্তানের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আগ্রহের সঙ্গে তারা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা গ্রহণ করান। সরেজমিনে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের টিকাকেন্দ্রে দেখা যায়, শিশুদের দীর্ঘ সারি, অভিভাবকদের উদ্বেগ আর স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যস্ততা, সব মিলিয়ে এক কর্মচাঞ্চল্যপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে মাঝে মাঝে সাময়িক জটলাও তৈরি হচ্ছে।
এই কেন্দ্রের জন্য ২ হাজার ৫০০ ডোজ টিকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এখন পর্যন্ত হামের সন্দেহে ১৪৯ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৫ জনের শরীরে হাম এবং একজনের শরীরে রুবেলা শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং বর্তমানে ২৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া হামের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই টিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
টিকা নিতে আসা অভিভাবক আকরামুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে হামের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ায় আমরা সন্তানের সুরক্ষার জন্য টিকা দিতে এসেছি।’
অন্য অভিভাবক মারিয়া জান্নাত জানান, ‘আমার সন্তান আগেও হামের টিকা নিয়েছে। এবার বুস্টার ডোজ দিতে এনেছি। এখানে এসে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) মোঃ এনামুল কবীর জানান, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। পূর্বে টিকা নেওয়া শিশুরাও এই কর্মসূচির আওতায় পুনরায় টিকা পাবে। তবে অসুস্থ শিশুদের সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অন্যান্য টিকার সঙ্গে সমন্বয় রেখে কমপক্ষে ২৮ দিনের ব্যবধান বজায় রেখে হামের টিকা নিতে হবে। সকল কেন্দ্রে পর্যাপ্ত টিকা মজুদ রয়েছে।
এ বিষয়ে বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, ‘সদর উপজেলায় শুরু হওয়া এই কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে পুরো জেলায় বিস্তৃত করা হবে। ২১ দিনের এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।’
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তাই অভিভাবকদের সচেতন হয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।