বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার খানপুরা এলাকায় প্রকাশ্য হামলার ঘটনায় এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সোনালী ব্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আহত ব্যক্তি নাসির চৌকিদার (৫৫)। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং পরে গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার সময় নাসির চৌকিদারের ভাতিজা মাহিন (১৬) কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে সরকারি পুকুরঘাট এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় স্থানীয় আব্দুর রব মল্লিকের ছেলে ফয়সাল মল্লিক (২৪) সেখানে এসে মাহিনের কাছে টাকা দাবি করেন। মাহিন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে ফয়সাল মল্লিক ও তার সহযোগীরা মাহিনের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে এবং তার ওপর হামলা চালায়। মাহিনের চিৎকার শুনে তার চাচা নাসির চৌকিদার ও কামাল বাবুর্চি (৪৮) ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন।
স্বজনদের দাবি, হামলার কারণ জানতে চাইলে ফয়সাল মল্লিক ক্ষিপ্ত হয়ে নাসির চৌকিদারের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। হামলা প্রতিরোধ করতে গেলে কামাল বাবুর্চির ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। গুরুতর আহত নাসির চৌকিদার বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন আহতের ভাই মানিক চৌকিদার। তিনি বলেন, আমার ভাইয়ের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। আমরা ঘটনার বিচার ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
অভিযুক্তের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার পরিবারের এক সদস্য দাবি করেন, ফয়সাল মল্লিক দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের অবাধ্য আচরণ করে আসছেন এবং তিনি মাদকাসক্ত। পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ফয়সাল মল্লিক এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।