1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
লেবুখালীতেলবনাক্ত জমিতে ৩২ জাতের আম ফলিয়ে নতুন দিগন্ত কৃষি গবেষণার - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ভাণ্ডারিয়ায় উপজেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত বাবুগঞ্জের বিস্তীর্ণ জঙ্গলে সেনাবাহিনীর গ্রীস্মকালীণ মহড়া পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী ভোলায় নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত চরফ্যাশনে ১ সন্তানের জননীর রহস্যজনক ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার  ঝালকাঠিতে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্বোধন নতুন রূপে ফিরছে বরিশালের জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়াম বাকেরগঞ্জে ৭০ বছরের বৃদ্ধা শাশুড়িকে ধর্ষণের অভিযোগ জামাইয়ের বিরুদ্ধে লেবুখালীতেলবনাক্ত জমিতে ৩২ জাতের আম ফলিয়ে নতুন দিগন্ত কৃষি গবেষণার ১ বছরে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বরিশালে গিয়েই ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

লেবুখালীতেলবনাক্ত জমিতে ৩২ জাতের আম ফলিয়ে নতুন দিগন্ত কৃষি গবেষণার

  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : উপকুলের লবনাক্ত ও জলাবদ্ধ জমিতে ৩২ জাতের আম ফলিয়ে নতুন দিগন্ত খুলছে আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট। এতে আগ্রহ বাড়ছে সাধারন কৃষকদের। দক্ষিনাঞ্চলের কৃষির প্রধান চ্যালেঞ্জ লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব।

 

 

এসব কারণে বছরের পর বছর কৃষকরা উৎপাদন ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তবে প্রতিকূল এ বাস্তবতার মধ্যেই নতুন সম্ভাবনার সন্ধান দিচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র। দেশী ফলের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উন্নত জাতের আম নিয়ে পরিচালিত গবেষণায় ইতোমধ্যে মিলেছে বেশ কিছু আশাব্যঞ্জক ফলাফল। গবেষকরা বলছেন, একাধিক মৌসুমের পরীক্ষায় সফলতা মিললে দক্ষিণাঞ্চলেও বিদেশি উন্নত জাতের আমের বাণিজ্যিক চাষের পথ উন্মুক্ত হতে পারে।

 

পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার লেবুখালীতে অবস্থিত আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে উপকূলীয় অঞ্চলের উপযোগী ফলের জাত নির্বাচন ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করছে। চলতি ২০২৪-২৫ মৌসুমে কেন্দ্রটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩১টি বিদেশী (এক্সোটিক) আমের জার্মপ্লাজম নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করেছে। এসব জাতের অভিযোজন ক্ষমতা, ফলন, ফলের আকার, রং, স্বাদ, মিষ্টতার মাত্রা, খাওয়াার উপযোগী অংশ, সংরক্ষণ ক্ষমতা এবং রোগ সহনশীলতা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

 

গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষাধীন ৩২টি জাতের মধ্যে ছয়টি জাতে আকর্ষণীয় লাল খোসার আম পাওয়া গেছে। এগুলো হলো- মিয়াজাকি (গও চক-০১৮), লেডিজেন (গও চক-০২১), চিয়াংমাই (গও চক-০২৬), তাইওয়ান রেড (গও চক-০৩২), কুজাই (গও চক-০৩৪) এবং কিং চাকাপাত (গও চক-০৩৯)। দেশে লাল খোসার আম এখনও বিরল। ফলে বাজারে এসব জাতের চাহিদা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে রপ্তানির সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

 

গবেষণায় সবচেয়ে বড় আকৃতির আম পাওয়া গেছে বরুনাই কিং (গও চক-০৪২) জাত থেকে। একটি আমের ওজন রেকর্ড করা হয়েছে ২ হাজার ৩৫১ গ্রাম, যা প্রায় আড়াই কেজির সমান। সাধারণ বাজারে বিক্রি হওয়া আমের তুলনায় এটি কয়েক গুণ বড়।

 

ফলের গুণগত মান মূল্যায়নেও মিলেছে উল্লেখযোগ্য তথ্য। চিয়াংমাই (গও চক-০২৬) জাতের আমে ৮১ শতাংশ খাওয়ার উপযোগী অংশে (ভক্ষন যোগ্য) যা পাওয়া গেছে, তা পরীক্ষাধীন সব জাতের মধ্যে সর্বোচ্চ। অর্থাৎ আঁটি ও খোসার তুলনায় এ জাতের শাঁসের পরিমাণ অনেক বেশি। অন্যদিকে সাদা দোফালা (গও চক-০২২) জাতে ২৬ শতাংশ ব্রিক্স (ইৎরী) বা দ্রবণীয় শর্করা পাওয়া গেছে, যা এর উচ্চ মিষ্টতার প্রমাণ বহন করে।

 

ফলনের ক্ষেত্রেও এগিয়ে রয়েছে চিয়াংমাই জাত। গবেষণায় এ জাতের সম্ভাব্য উৎপাদন প্রতি হেক্টরে ২ দশমিক ৭৩ টন নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া কিংস্টন প্রাইড (গও চক-০৩৩) ও কাটিমন (গও চক-০১৭) জাতও উচ্চ ফলনের সম্ভাবনা দেখিযেছে।

 

গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো চোকানোন (গও চক-০৪০) জাতের আমে মৌসুমের বাইরে ফল ধারণের বৈশিষ্ট্য শনাক্ত হওয়া। দেশে সাধারণত মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত আমের মৌসুম থাকে। অফ-সিজনে ফল ধরার এ বৈশিষ্ট্য ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এতে কৃষকরা মৌসুমের বাইরেও আম উৎপাদন করে বেশি দাম পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

 

সংরক্ষণ ক্ষমতার দিক থেকেও কিছু জাত ইতিবাচক ফল দেখিয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, বানানা ম্যাঙ্গো (গও চক-০১৫) ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ৯ থেকে ১০ দিন পর্যন— ভালো থাকে। দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব হলে দূরবর্তী বাজারজাতকরণ ও রপ্তানির ক্ষেত্রেও তা বিশেষ সুবিধা দেবে।

 

গবেষণা শুধু আমেই সীমাবদ্ধ নয়। একই সঙ্গে জলাবদ্ধ এলাকায বারোমাস পেয়ারা এবং লবণাক্ত পরিবেশে আম, পেয়ারা, ড্রাগন, মালটা ও জাম্বুরা চাষের উপযোগী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কাজও চলছে। উপকূলের প্রতিকূল পরিবেশে কৃষকদের বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করাই এ গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য।

 

গবেষণা কেন্দ্রের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়েও প্রযুক্তি সম্প্রসারণের কাজ চলছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উন্নত চারা সরবরাহ, বাগান ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন এবং আধুনিক ফলচাষ পদ্ধতি সম্পর্কে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলায় ফলচাষে আগ্রহ বাড়ছে।

 

গলাচিপার উপজেলার কৃষক মো. আব্দুল জব্বার আকুন্দ বলেন, বারির পরামর্শে এ বছর জরাবদ্ধ জমিতে আমের বাগান করেছি। আগে মনে হতো উপকূলে বিদেশি আম হবে না। এখন গাছের বৃদ্ধি ও ফলন দেখে আমাদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।

 

বাউফলের কৃষক সুফিয়া খাতুন বলেন, পেয়ারার পাশাপাশি এখন আম চাষের দিকেও ঝুঁকছি। যদি গবেষণায় সফল জাতগুলোর চারা সহজে পাওয়া যায়, তাহলে অনেক কৃষকই বাণিজ্যিকভাবে আমচাষে আগ্রহী হবেন।

 

লবনাক্ত উপজেলা কলাপাড়ার কৃষক মো. কবির মৃধা বলেন, লবনাক্ত জমিতে ফল চাষ করে ঝুঁকি কমিয়ে ভাল ফলন পেয়েছি। তবে সরকারি উদ্যোগে উন্নত চারা, বাজার ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

 

গবেষনা কেন্দ্রের কৃষি বিশেষজ্ঞ শুভ মন্ডল ও মো: কবির এর মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষির বহুমুখীকরণ এখন সময়ের দাবি। সেই প্রেক্ষাপটে বারির এই গবেষণা শুধু নতুন একটি আমের জাত খোঁজার প্রচেষ্টা নয়, বরং উপকূলের কৃষিকে আরও লাভজনক, টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল করে তোলার একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ।

 

উদ্যানতত্ত্বের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহমুদা রত্না বলেন, গবেষণায় গও চক-০১৩ ও গও চক-০২৫ বাদে অধিকাংশ জাতই ফলের আকার, রং, গুণগত মান, খাওয়ার উপযোগী অংশ, সংগ্রহকাল ও সংরক্ষণ ক্ষমতার দিক থেকে আশাব্যঞ্জক ফল দেখিয়েছে। তবে গবেষণা এখনও চলমান। একাধিক মৌসুমের তথ্য বিশ্লেষণ শেষে দক্ষিণাঞ্চলের জন্য উপযোগী জাত চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হবে।

 

বারির আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলিমুর রহমান বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু ও মাটির বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় রেখেই গবেষণা পরিচালনা করা হচ্ছে। বিদেশি আমের জার্মপ্লাজমগুলোর অভিযোজন ক্ষমতা, ফলন, গুণগত মান ও সংরক্ষণ ক্ষমতা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধ এলাকায় বারোমাসি পেয়ারা এবং লবণাক্ত পরিবেশে ফল চাষের উপযোগী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কাজ চলছে।

 

গবেষণার লব্ধ সফল জ্ঞান প্রযুক্তি দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছানো গেলে দক্ষিণাঞ্চলে বিদেশি উন্নত জাতের আমের বাণিজ্যিক চাষের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে বাড়বে কৃষকের আয়, সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যতে রপ্তানি আয়েরও সম্ভাবনা তৈরি হবে।

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network