ভারী বর্ষণে চরফ্যাশনের ৩০ গ্রাম প্লাবিত, ইউএনও’র ত্রান সামগ্রী বিতরণ
আপডেট সময় :
রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
ভারী বর্ষণে চরফ্যাশনের ৩০ গ্রাম প্লাবিত, ইউএনও’র ত্রান সামগ্রী বিতরণ
শাহাবুদ্দিন সিকদার, চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি: টানা কয়েক দিনের অতী বর্ষণ ও প্রতিকুল আবহাওযার প্রভাবে ভোলার চরফ্যাশনে মেঘনা ও তেতুলিয়ার পাশবর্তী গ্রামে জোয়ারের পানির উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশাল সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের তোরে উপকূলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে রয়েছে আতঙ্ক। বেড়ি বাধে বসবাকৃত এবং এর আশপাশে বসবাসকৃত লোকজনের বেড়িবাধ ভাঙ্গন আতঙ্কে দিন কাটছে। একদিকে ভারি বর্ষন অন্যদিকে নদীর জোয়ারের পানি বৃদ্ধিতে উপজেলার বেশ কয়েকটি চরের নিমাঞ্চল এলাকার প্রায় ৩০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- আসলামপুর, মাদ্রাজ, হাজারিগঞ্জ, জাহানপুর, এওয়াজপুর, চরমানিকা, নীলকমল বাংলাবাজার, ঘোষেরহাট ও নজরুল নগ, ঢালচর, কুকরি-মুকরি,ওসমান গঞ্জ, আমিরাবাদ, আব্দুলাপুর,আবু বকরপুর এবং চরপাতিলা ও চর নিজাম এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় ভারী বর্ষণের...
শাহাবুদ্দিন সিকদার, চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি: টানা কয়েক দিনের অতী বর্ষণ ও প্রতিকুল আবহাওযার প্রভাবে ভোলার চরফ্যাশনে মেঘনা ও তেতুলিয়ার পাশবর্তী গ্রামে জোয়ারের পানির উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশাল সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের তোরে উপকূলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে রয়েছে আতঙ্ক। বেড়ি বাধে বসবাকৃত এবং এর আশপাশে বসবাসকৃত লোকজনের বেড়িবাধ ভাঙ্গন আতঙ্কে দিন কাটছে। একদিকে ভারি বর্ষন অন্যদিকে নদীর জোয়ারের পানি বৃদ্ধিতে উপজেলার বেশ কয়েকটি চরের নিমাঞ্চল এলাকার প্রায় ৩০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- আসলামপুর, মাদ্রাজ, হাজারিগঞ্জ, জাহানপুর, এওয়াজপুর, চরমানিকা, নীলকমল বাংলাবাজার, ঘোষেরহাট ও নজরুল নগ, ঢালচর, কুকরি-মুকরি,ওসমান গঞ্জ, আমিরাবাদ, আব্দুলাপুর,আবু বকরপুর এবং চরপাতিলা ও চর নিজাম এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
এসব এলাকায় ভারী বর্ষণের প্রভাবে নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় খাল বিল, পুকুর, জলাশয়, মাছের ঘের, কৃষি ফসল তলিয়ে গিয়েছে। দেখা দিয়েছে খুব খাদ্য সংকট। শাক সবজি, সবজির খামার তলিয়ে যাওয়ায় বেড়ে গেছে কাঁচামাল ও সবজির দাম। সবজি চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ না হওয়ায় হতাশায় ভুগছে সাধারণ মানুষ।
একদিকে বাড়ি বর্ষণ অন্যদিকে বিভিন্ন ইউনিয়নের স্লুইসগেট বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয় তীব্র আকারে। যার কারণে পানি ঢুকে পড়েছে নিচু এলাকার অনেক বসসতবাড়িতে। যার ফলে হাঁস মুরগীর খামারসহ গবাদিপশুর খামার পানিতে তলিয়ে গেছে।
পা.উ.বো সূত্রে জানা গেছে,পানির মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সুলিজ গেট এখন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পানি নামতে শুরু করেছে।
উপকূলীয় খেটে খাওয়া দিনমজুর সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকা থমকে গেছে। তারা দৈনন্দিন কায়িক শ্রম না পাওয়ায় অর্ধহারে অনাহারে দিন কাটছে। টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে ও জোয়ারের পানির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে চরফ্যাশন উপজেলার মেঘনা-তেতুলিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় ২০০কি:মি: বেড়িবাঁধের ঢালে অতিবর্ষণে কষ্টে আছে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষগুলো।
উপজেলার বেতুয়া থেকে মাদ্রাজ, হাজারিগঞ্জ বেড়িবাঁধ এলাকায় বাঁধের ঢালে নারী ও শিশু নিয়ে বসবাস করা দরিদ্র পরিবার ও বিভিন্ন ছিন্নমূল অসহায় মানুষের হাতে ইতোমধ্যে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ। যা প্রয়োজন এর তুলনায় অনেক কম। এসময় তিনি কাছ থেকে ভাসমান এসব অসহায় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। ইউএনওর দেওয়া এ মানবিক খাদ্য সহায়তা পেয়ে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের চোখেমুখে আনন্দের হাসি ফুটে ওঠে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, আমার কাছে তথ্য ছিল- বেড়িবাঁধ এলাকায় ভাসমান ছিন্নমূল পরিবার রয়েছে। এদের দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও শিশু খাদ্যের তীব্র সংকট। এসব অসহায় পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের সুখ দুঃখের অংশীদার হওয়ার চেষ্টা করেছি। এক সপ্তাহের ধারাবাহিক বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলের এসব দরিদ্র মানুষের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানবিক খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বৈরি আবহাওয়ার কারণে মৌসুমি ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই এসব মানুষের মধ্যে চাল,ডাল, তেল, লবন, চিনি ও হলুদ, মরিচের গুঁড়াসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তাদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি এই বৃষ্টিতে অনেক দরিদ্র পরিবারের কর্মক্ষম সদস্য জীবিকা নির্বাহ করতে পারেনি। দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও শ্রমজীবী মানুষ কাজ করতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। টানা আরো কয়েকদিন বাড়ি বর্ষা হলে সাধারণ মানুষ বেশি ভোগান্তিতে পড়বে। পর্যাপ্ত পরিমাণ সাহায্য সহযোগিতা পেলে এসব মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষম হবে। এতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত বাজেট।