নিজস্ব প্রতিবেদক | বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার উত্তর কাজলাকাঠী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. কবির উদ্দিন খান-এর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি, নিয়োগ বাণিজ্য এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সুপার দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার জেনারেল ফান্ড ও রিজার্ভ ফান্ড থেকে ম্যানেজিং কমিটিকে না জানিয়ে জাল ভাউচার ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলন ও আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি, বেতন, টেস্ট ফি এবং অন্যান্য খাতের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে।
এতে আরও অভিযোগ করা হয়, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের নামে একজনের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা এবং সহ-সুপার পদে নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনজনের কাছ থেকে মোট ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষকদের টাইম স্কেল পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কয়েক লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বই বিতরণ ও পরীক্ষার প্রবেশপত্রের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, রিজার্ভ ফান্ডের অনিয়ম প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় সুপারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত সুপার মো. কবির উদ্দিন খান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগকারীরা চাইলে আদালতে মামলা করতে পারেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মাদ্রাসার সভাপতির পরিচয় নিয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য উঠে এসেছে। সুপার যাকে সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা ফোনে জানান, তিনি ওই মাদ্রাসার কোনো দায়িত্বে নেই।
এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন করার পর কিছু শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির অর্থ বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রয়োজনীয় তথ্যও তাদের দেওয়া হয়নি।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন চন্দ্র পাল বলেন, অভিযোগটি পুনরায় তাঁর কাছে জমা দিলে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।