নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল বিমানবন্দরের রানওয়ে ও এর আশপাশের সীমানাপ্রাচীরবেষ্টিত এলাকায় জন্মানো ঘাস কাটার অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিমানবন্দরটির ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় বহিরাগত কৃষকদের প্রবেশের সুযোগ দিয়ে ঘাস কাটতে দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে সরকারি রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ ও সংরক্ষিত (কেপিআই) স্থাপনায় নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে ঘাস কাটার বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরিশাল বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার রায়। তিনি দাবি করেছেন, আশপাশের কিছু কৃষক দীর্ঘদিন ধরে ঘাস কাটার জন্য বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি চেয়ে আসছিলেন। তাদের অনুরোধ বিবেচনা করে ফ্লাইট না থাকাকালে কিছু মানুষকে ঘাস কাটার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালুর পর বরিশাল বিমানবন্দরে যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়ায় নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনায় পরিবর্তন এসেছে। আগে বাংলাদেশ বিমানের পাশাপাশি বেসরকারি কয়েকটি এয়ারলাইনস সপ্তাহে একাধিক ফ্লাইট পরিচালনা করলেও পরবর্তী সময়ে যাত্রী সংকট ও পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় ফ্লাইটের সংখ্যা কমেছে। ফলে বিমানবন্দরের ভেতরে মানুষের চলাচলও আগের তুলনায় কমেছে। এর সুযোগে রানওয়ের আশপাশসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে ঘাস জন্মেছে।
স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরের ভেতরের ঘাস কাটতে আশপাশের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন কৃষক নিয়মিত প্রবেশ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের কেউ কেউ মাথাপিছু দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করে ঘাস কাটার সুযোগ পাচ্ছেন, এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে। সকাল ও বিকেলে পালাক্রমে এসব ব্যক্তি বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশ করে ঘাস কেটে নিয়ে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমানবন্দরের এক কর্মচারী বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে সীমানাপ্রাচীরের নিচ দিয়ে লোকজন বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশ করে ঘাস কেটে নিয়ে যাচ্ছে। ঘাস কাটার বিপরীতে তাদের কাছ থেকে একটি অঙ্কের টাকা নেওয়া হচ্ছে বলেও আমরা শুনেছি।
অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার রায় বলেন, ঘাস কাটার জন্য টাকা নেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। আশপাশের অনেক কৃষক এসে অনুরোধ করেন। তারা বলেন, আগেও তারা এভাবে ঘাস কাটতেন। তাদের অনুরোধ বিবেচনা করে কিছু লোককে ফ্লাইট না থাকার সময়ে ঘাস কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সামনে থেকে এটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। সীমানাপ্রাচীর দিয়ে যাতে অবাধে কেউ প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা অধীক্ষক মনমথ সরকার বলেন, বিমানবন্দরের ভেতর থেকে ঘাস কাটা হলে তার বিপরীতে পাওয়া অর্থ অবশ্যই সরকারি রাজস্ব খাতে জমা হওয়ার কথা। তবে বিমানবন্দরের সীমানাপ্রাচীরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও তিনি উদ্বেগের কথা জানান। বিমানবন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংরক্ষিত স্থাপনা হওয়ায় অনুমোদন ছাড়া বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশের সুযোগ থাকলে তা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে রানওয়ে ও বিমান চলাচলের সংবেদনশীল এলাকায় অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশের বিষয়টি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে ঘাস বিক্রি বা কাটার বিনিময়ে অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে কি না, কত টাকা আদায় হয়েছে এবং এর কোনো সরকারি অনুমোদন বা হিসাব রয়েছে কি না এসব বিষয়ও তদন্তের দাবি রাখে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সরকারি রাজস্বের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে সংরক্ষিত বিমানবন্দর এলাকায় বহিরাগতদের প্রবেশের বিষয়টি খতিয়ে দেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি উঠেছে।