নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের গৌরনদী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ একাধিক জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকাসহ বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
প্রকাশিত সংবাদের সচিত্র প্রতিবেদন ধামাচাঁপা দেয়ার জন্য কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এআই’র মাধ্যমে একটি পত্রিকার লোগো সম্বলিত প্রতিবাদ সংবাদের ই-পেপার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। তবে যে ই-পেপারটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে তা সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের ওয়েবসাইটে ওই প্রতিবেদনের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সূত্রমতে, সম্প্রতি গৌরনদীর টিটিসিতে ভর্তি কার্যক্রম, আবাসিক কক্ষ ব্যবহার, বাড়িভাড়া ভাতা গ্রহণ, প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা, খাবার সরবরাহ, কেন্দ্রের ভেতরে হাঁস-মুরগি ও কবুতর পালন, দায়িত্ব বণ্টন এবং কর্মরত নন এমন ব্যক্তির আবাসিক সুবিধা ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে একটি অনুসন্ধানী সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দা, প্রশিক্ষণার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যর পাশাপাশি টিটিসির অধ্যক্ষ আবুল বাশার আল মামুনসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদের পর অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সংবাদ প্রবাহ’ নাম ব্যবহার করে একটি ই-পেপারের কপি ছড়িয়ে দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ই-পেপারটিতে গত ২৩ আগস্ট, রবিবার তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের ওয়েবসাইটে অনুসন্ধান করে ওই শিরোনাম বা ই-পেপারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রতিবেদনটি খুঁজে না পাওয়ায় ই-পেপারটির উৎস, প্রকাশের সময়, প্রতিবেদকের পরিচয় এবং মূল প্রতিবেদনটি কোথায় প্রকাশিত হয়েছিল এসব বিষয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাস্তব গণমাধ্যমের লোগো, ফটোকার্ড, শিরোনাম ও সংবাদ উপস্থাপনার আদলে কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব। সেই ধারনা থেকে ওই সংবাদটি যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, সংবাদ প্রবাহের মূল ওয়েবসাইট, অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজ এবং প্রকাশনার আর্কাইভে ওই শিরোনামে কোন সংবাদই নেই।