উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৭৯ নম্বর বারপাইকা হানুয়া এম এ বশির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে।
বর্ষা মৌসুমে বছরের প্রায় ছয় মাস সড়কটির বিভিন্ন অংশ দুই থেকে তিন ফুট পানির নিচে তলিয়ে থাকে। এতে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের অনেকেই বর্ষাকালে ঝুঁকি নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে। অতিবৃষ্টির সময় পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতেই পারে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানিতে তলিয়ে থাকা একমাত্র সড়কটির কোথায় গর্ত, কোথায় উঁচু-নিচু কিংবা কোথায় রাস্তার কিনারা শেষ হয়েছে, তা বোঝার কোনো উপায় থাকে না। ফলে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার সময় ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করতে হয়।
বই-খাতা ও স্কুলব্যাগ নিয়ে দুই থেকে তিন ফুট পানি পার হওয়ার সময় অনেক শিক্ষার্থী ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। ইতোমধ্যে কয়েকবার শিক্ষার্থীরা পা পিছলে সড়কের পাশের পুকুরে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সৌভাগ্যক্রমে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবে বিদ্যালয়ের সড়কসংলগ্ন পুকুরটি গভীর হওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকেরা।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষাকালে সড়কে পানি বেশি থাকলে অনেক শিশুই বিদ্যালয়ে যেতে ভয় পায়। অভিভাবকেরাও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন।
ফলে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পাঠানো সম্ভব হয় না। এতে তাদের নিয়মিত উপস্থিতি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পড়াশোনার ধারাবাহিকতাও নষ্ট হচ্ছে। শিক্ষকদেরও একই দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার জন্য একটি নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। অথচ বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর পথটিই যদি বছরের অর্ধেক সময় পানির নিচে থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, সমস্যাটি শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সড়কটি ব্যবহারকারী পুরো এলাকার মানুষই বর্ষাকালে দুর্ভোগের শিকার হন। রোগী, শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
পানির নিচে থাকা সড়কের গর্ত ও ভাঙাচোরা অংশ দেখা না যাওয়ায় পথচারীদের পাশাপাশি যানবাহন চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তাদের দাবি, সড়কটি শুধু সাময়িকভাবে মেরামত করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।
সড়কটি প্রয়োজন অনুযায়ী উঁচু করে টেকসইভাবে সংস্কারের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের পাশে থাকা গভীর পুকুরের অংশটিও নিরাপদ করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বর্ষাকালে সড়কটির বাস্তব অবস্থা সরেজমিনে দেখলেই সমস্যার ভয়াবহতা স্পষ্ট হবে।
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা শুধু একটি সড়ক সংস্কারের বিষয় নয়, এর সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার অধিকার সরাসরি জড়িত। তাই কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটার পর নয়, দুর্ঘটনার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সংশ্লিষ্ট দপ্তর দ্রুত উদ্যোগ নিলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হতে পারে বলে আশা করছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উজিরপুর উপজেলা প্রশাসন, উজিরপুর পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল দপ্তর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করবে এবং সড়কটির স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নেবে।
তাদের দাবি, **১৭৯ নম্বর বারপাইকা হানুয়া এম এ বশির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সড়কটি দ্রুত উঁচু ও টেকসইভাবে সংস্কার করে নিরাপদ চলাচলের উপযোগী করা হোক।** একটি গভীর পুকুরের পাশ দিয়ে বছরের ছয় মাস পানির মধ্যে দিয়ে কোমলমতি শিশুদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হবে, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই বড় ধরনের দুর্ঘটনার অপেক্ষা না করে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।