নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১ কোটি ১৭ লাখ টাকার বিল আত্মসাৎ ও প্রতারণার এক ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে।
দপ্তরের ভবনের সৌন্দর্যবর্ধন ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনের কাজের দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়ার কথা বলে একটি ইন্টেরিয়র প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে মৌখিক চুক্তিতে কাজ করিয়ে নেওয়ার পর সেই বিল নিজেই উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে পাওনা টাকা চাইতে গেলে এক প্রভাবশালী ঠিকাদারকে দিয়ে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানকে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল ভবনের ভেতরের ডেকোরেশন ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনের কাজের জন্য একটি প্রতিষ্ঠিত ইন্টেরিয়র ফার্মের সাথে যোগাযোগ করেন প্রকৌশলী শহিদুল। আনুষ্ঠানিক দাপ্তরিক প্রক্রিয়া পরবর্তীতে সম্পন্ন করার নিশ্চয়তা দিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে মোট ১ কোটি ১৭ লাখ টাকার কাজ শুরু করার মৌখিক নির্দেশ দেন। প্রকৌশলীর কথা বিশ্বাস করে উক্ত ফার্মটি নির্ধারিত সময়ে নিজস্ব অর্থায়নে মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করে।
কাজ শেষ হওয়ার পর ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানটি তাদের পাওনা বিলের জন্য তাগাদা দিলে শুরু হয় নানা টালবাহানা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রকৌশলী শহিদুল কৌশলে ভুয়া কাগজপত্র বা বিকল্প উপায়ে উক্ত কাজের ১ কোটি ১৭ লাখ টাকার পুরো বিলটি সরকারি তহবিল থেকে নিজে উত্তোলন করে পকেটে পুরেছেন। অথচ কাজের প্রকৃত বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানকে টাকা না দিয়ে দিনের পর দিন ঘোরাতে থাকেন তিনি।
মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও টাকা না পেয়ে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা পাওনা আদায়ে চাপ সৃষ্টি করলে শুরু হয় ভিন্ন মাত্রা। প্রকৌশলী শহিদুল সরাসরি টাকা দিতে অস্বীকার করেন এবং স্থানীয় এক প্রভাবশালী ঠিকাদারকে দিয়ে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন। উক্ত প্রভাবশালী ঠিকাদার ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীকে অফিসে যেতে নিষেধ করছেন এবং বেশি বাড়াবাড়ি করলে প্রাণনাশের হুমকি ও দেখে নেওয়ার ভয় দেখাচ্ছেন বলে ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ইন্টেরিয়র প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি কর্মকর্তা শহিদুলের কথায় ভরসা রেখে আমরা নিজেদের ব্যবসার পুরো মূলধন ও ঋণ নিয়ে ১ কোটি ১৭ লাখ টাকার কাজ শেষ করেছি। অথচ তিনি আমাদের কাজের টাকা নিজে তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।
এখন পাওনা টাকা চাইলে প্রভাবশালী ঠিকাদার পাঠিয়ে আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা এখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও সর্বস্বান্ত।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রকৌশলী শহিদুলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এদিকে সরকারি বিল উত্তোলন করে আত্মসাৎ এবং ঠিকাদার দিয়ে ব্যবসায়ীকে হুমকির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানটি এই জালিয়াতি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিচার চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে।