নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ময়মনসিংহে ডিবি ও ডিজিএফআই সদস্য পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল, সাতটি মোবাইল ফোন ও একটি ভুয়া পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই অপহরণের শিকার আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। এরপর দুপুরে গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠায় পুলিশ।
এর আগে শুক্রবার(১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর জালালের মোড় নটর ডেম কলেজের পেছনে এ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, দিনাজপুরের খানসামা থানার ছিট আলোকদি এলাকার মো. শামীম ইসলাম সবুজ (৩৫), ময়মনসিংহ নগরীর সুতিয়াখালী এলাকার আল-আমীন (২০) ও পিয়াস মিয়া (২২), শেরপুরের নকলা থানার চর ভাবনা এলাকার ফারুক আহম্মেদ (৩৫) এবং ময়মনসিংহ নগরীর বাগমারা এলাকার দিদারুল ইসলাম (৫৮)। উদ্ধার যুবক আব্দুস সামাদ সদর উপজেলার চুরখাই ইউনিয়নের পনগাগরা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
পুলিশ জানায়, নিয়মিত টহল ডিউটির সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালি মডেল থানার এএসআই মো. কাদিরুল ইসলাম জানতে পারেন, জালালের মোড় এলাকায় এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে এনে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। পরে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার এবং পাঁচজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম মোঃ আব্দুস সামাদ (৩১)। তিনি ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার পনঘাগড়া এলাকার আব্দুর রেজ্জাকের ছেলে। এ বিষয়ে ভিক্টিম আব্দুস সামাদ বলেন, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহের চুরখাই এলাকায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিজেদের ডিবি ও ডিজিএফআই সদস্য পরিচয় দিয়ে তাকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান। পরে জালালের মোড় এলাকায় এনে মাদকের মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার ও আদালতে চালান দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করা হয়।
এ সময় কাদিরুল ভিক্টিম আব্দুস সামাদের চোখ দেখেই বুজতে পারেন- যুবক আব্দুল সামাদ ট্রাপে পড়েছেন। পরে তাদের অনুসরণ করার একপর্যায়ে কাদিরুল তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। একই সাথে যুবক আব্দুস সামাদকে উদ্ধার করে।
কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কাদিরুল ইসলাম বলেন, নটর ডেম কলেজের পেছনে একটি নির্মাণাধীন ভবনের কাছে টহল দেওয়ার সময় তিনি একটি মোটরসাইকেলে তিনজনকে যেতে দেখেন। মাঝে বসানো যুবকের সঙ্গে চোখাচোখি হলে তাকে বিপদগ্রস্ত মনে হয়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি মোটরসাইকেলটির গতিবিধি অনুসরণ করতে থাকেন। এর প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর তিনি ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনতে পান।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে শামীম ইসলাম নিজেকে সেনাসদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন। ২০০৯ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর ২০২১ সালে দুই মাসের বার্ষিক ছুটিতে গিয়ে তিনি আর ইউনিটে ফেরেননি।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন সাবেক সেনাসদস্য ও একজন সিটি করপোরেশনের কম্পিউটার অপারেটর আছেন। তারা আগে একই ধরনের ঘটনায় জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।