নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশালের গৌরনদীতে এক মুক্তিযোদ্ধার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। চাঁদা না দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে দিবালোকে মুক্তিযোদ্ধাকে পিটিয়ে আহত করে। এ হামলার ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।
মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে শনিবার সন্ত্রাসীরা পুনরায় বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও মুক্তিযোদ্ধা এবং তার প্রবাসী পুত্রবধূকে কুপিয়ে জখম করেছে। আহতদের গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২৫ আগস্ট থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের কান্ডপাসা গ্রামের মৃত তোফায়েল আহমেদ হাওলাদারের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা জালাল আহমেদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল স্থানীয় কতিপয় সন্ত্রাসী। চাঁদা না দেওয়াই গত ২২ জুলাই সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে পিটিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জালাল আহম্মেদ নামে ৮০ বছরের বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মুক্তিযোদ্ধা জালাল আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, কান্ডপাশা গ্রামের মৃত মালেক হাওলাদারের ছেলে আল মামুন স্বপন (৫৬) নলচিড়া বাজারের মধ্যে হামলা চালিয়ে পিটিয়ে নির্মম নির্যাতন করে। এ ঘটনা শত শত লোক দেখলেও সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি।
জালাল আহমেদ আরও অভিযোগ করে বলেন, ওই হামলার ঘটনায় আমি আল মামুন স্বপনকে প্রধান আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করলে স্বপন ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে হুমকি দেয়। শনিবার আল মামুন স্বপনের নেতৃত্বে ২০-২৫ সন্ত্রাসী আমার বাড়িতে গিয়ে ঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়ে আমাকে ও আমার পুত্রবধূ সীমা বেগমকে কুপিয়ে জখম করে।
আমি ৯৯৯ ফোন করলে গৌরনদী মডেল থানার এসআই অলিউল ইসলাম উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় পুত্রবধূ সীমার গলার চেইন, কানের দুলসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। আমি পরিবার-পরিজন নিয়ে সন্ত্রাসী স্বপ্নের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে আল মামুন স্বপনের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি তা রিসিভ করেননি। গৌরনদী মডেল থানার এসআই অলিউল ইসলাম আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির কথা স্বীকার করেন। গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তারিক হাসান রাসেল বলেন, বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।