নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় আজ বুধবার মধ্যরাত থেকে বরিশালসহ সারা দেশে ২২ দিনের জন্য ইলিশ ধরা বন্ধ হচ্ছে। আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বরিশালের সব নদ-নদী ও বঙ্গোপসাগরে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ এবং ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে জেলেদের নদী বা সাগরে মাছ আহরণের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসন। বুধবার সকালে বরিশাল সার্কিট হাউসে ইলিশ রক্ষা ও টেকসই মৎস্যসম্পদ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক বিভাগীয় জনসচেতনতা সভায় ইলিশ সংরক্ষণে জেলেদের সরকারি নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, মা ইলিশ রক্ষা করা গেলে বরিশাল অঞ্চলে ইলিশের উৎপাদন ও মৎস্যসম্পদের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পাবে। এজন্য নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদ-নদীতে ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিক্রি বন্ধ রাখতে হবে।
তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞার সময়ে বরিশাল বিভাগের সব জেলা ও উপজেলার নদ-নদী এবং সাগরে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জেলেদের কাছে সরকারি সহায়তা যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (অপারেশনস) কাজী মো. সোয়েব এবং বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান। এ ছাড়া মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি, জেলে প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, ২২ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জেলেরা। এক জেলে জানান, ভরা মৌসুমেও তারা আশানুরূপ ইলিশ পাননি। মাত্র চার-পাঁচ দিন ট্রলার নিয়ে সাগরে গিয়ে বাজারের খরচও তুলতে পারেননি। পাঁচ লাখ টাকার রসদ নিয়ে সাগরে গিয়ে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার মাছ বিক্রি করতে পেরেছেন। এর ওপর নতুন করে অবরোধ শুরু হওয়ায় পরিবার নিয়ে কীভাবে দিন কাটবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
মো. আব্দুর রহমান নামের আরেক জেলে বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় যে প্রণোদনা বা সহায়তা দেওয়া হয়, তা পর্যাপ্ত নয়। সারা বছরই আমাদের কষ্টে দিন কাটাতে হয়। তিনি সরকারি সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর দাবি জানান।