নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়ে বরিশাল সদর উপজেলার জাগুয়া ইউনিয়নের চন্ডিপুর এলাকার মোহাম্মদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি এ কে এম মনিরুল ইসলাম ওরফে ফিরোজ, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘বাংলাবাজার ফিরোজ’ নামে পরিচিত, তাঁকে ঘিরে বিদ্যালয়ের পরিচালনা, শিক্ষার পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে।বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে এসব অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসীর একটি অংশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলীর ছেলে ফিরোজ ও তাঁর ছোট ভাই শাহীন দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বা পরিচালনা পর্ষদের নেতৃত্বে প্রভাব বিস্তার করেছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে নেতৃত্বে থাকার পরও বিদ্যালয়ের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর কয়েকজনের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের নির্ধারিত ক্লাসের সময় বিকেল ৪টা পর্যন্ত থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিতভাবে ওই সময় পর্যন্ত পাঠদান হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা জানান। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের উপস্থিতি রেজিস্টার, ক্লাস রুটিন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।
এ ছাড়া ফিরোজের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের দাবি, ২০১৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্ট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তবে এসব বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পোস্ট, ছবি, তারিখ ও অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে গ্রহণযোগ্যতা তৈরির চেষ্টা করেছেন ফিরোজ। বিদ্যালয়ের সভাপতির পদ ধরে রাখার উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগ ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
এলাকাবাসীর দাবি, বিদ্যালয়ের আর্থিক লেনদেন, উন্নয়ন ব্যয়, পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত এবং দীর্ঘদিনের পাঠদান কার্যক্রম নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস নিশ্চিত করা, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং পরিচালনায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ: বিদ্যালয়ের পরিচালনা, আর্থিক হিসাব ও পাঠদান কার্যক্রমের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।