নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন পালনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
শুক্রবার রাত থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছেন তৃণমূল ও বিজেপির নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা। দুই পক্ষের মধ্যে বচসা, ধস্তাধস্তি ও ইট ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিষেকের অভিযোগ, বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা তাদের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছেন। পেরেক বসানো লাঠি নিয়ে তার অনুগামীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তার চার-পাঁচজন অনুসারী গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এ ঘটনাকে তাকে হত্যার চক্রান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন তৃণমূলের এই নেতা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) অভিষেকের জন্মদিন। এ উপলক্ষে শুক্রবার মধ্যরাতের পর কালীঘাটে তার বাড়ির সামনে জড়ো হন তৃণমূলের নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা। অভিযোগ, রাত দুইটার দিকে সেখানে হাজির হয়ে বিজেপির কর্মীরা ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। এ সময় জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে টাঙানো অভিষেকের ছবি, কাটআউট ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তৃণমূল সমর্থকেরা এতে বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা করে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে।
ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার রাতেই নিজের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন অভিষেক। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক হয়। রাতেই বাড়ির বাইরে এসে আহত অনুসারীদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। অভিষেক বলেন, ‘হামলা করে আমাকে প্রাণে মারার চক্রান্ত চলছে।’ হামলাকারীরা পুলিশের গায়েও চড় মেরেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিষেকের দাবি, হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়ে দুই দিন আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছিলেন তিনি। ওই পোস্টে লোকসভার স্পিকারকেও ট্যাগ করেছিলেন। শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে পুলিশের হস্তক্ষেপে তিনি বাড়ির ভেতরে যান।
অন্যদিকে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। বিজেপি নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের বক্তব্যের জবাবে অভিষেক বলেন, ‘মানুষ যখন হেরে যায়, সেই সময় এই ধরনের কথা বলে।’