নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ভোলার মনপুরায় ২৬ পিস ইয়াবাসহ এক দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ। আটক দম্পতির বিরুদ্ধে মাদক কারবারের পাশাপাশি অর্থের বিনিময়ে স্ত্রীকে দিয়ে বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। স্বামী নিজেই স্ত্রীকে এ কাজে পাঠাতেন বলে তাদের ভিডিও বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন স্লুইস গেটসংলগ্ন বেড়িবাঁধের পাশের নদীর তীর থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নাসরিন (১৮) এবং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মিজান (৩০)।
পুলিশের এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় রিপন চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি ফোন করে নদীর তীরে দুজনকে মাদকসহ আটকে রাখার খবর দেন।
পরে পুলিশের একটি দল স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় নাসরিনের ওড়নার ভেতরে থাকা একটি কালো ব্যাগ থেকে সবুজ পলিথিনে মোড়ানো ২৬ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা ইয়াবার মোট ওজন ২ দশমিক ৬ গ্রাম। এগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ হাজার ৪০০ টাকা। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে জব্দ তালিকা তৈরি করে ইয়াবাগুলো জব্দ করা হয়। রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য দুটি বড়ি আলাদা করে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মিজান দীর্ঘদিন ধরে নিজের বাসাসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার পরিচালনা করে আসছিলেন। আর্থিক লাভের আশায় স্ত্রীকে দিয়ে বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব কর্মকাণ্ডের আড়ালে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করা হতো বলে দাবি স্থানীয়দের।
এদিকে আটক নাসরিনের ভিডিও বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ঘটনার দিন দুই ব্যক্তির সঙ্গে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর চুক্তি করেছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর সঙ্গে এ ধরনের কাজে যুক্ত থাকার কথাও জানান তিনি। স্বামী মিজানের ভিডিও বক্তব্যেও অর্থের বিনিময়ে স্ত্রীকে দিয়ে এ ধরনের কাজ করানোর বিষয়টি উঠে এসেছে।
তবে অর্থের বিনিময়ে যৌন কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের দায়ের করা মামলার এজাহারে কোনো উল্লেখ নেই। বিষয়টি কেবল আটক দম্পতির ভিডিও বক্তব্যের মাধ্যমে জানা গেছে।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, আটক দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।