1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
আমতলী মসজিদের নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বাকেরগঞ্জে বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন এমপি আবুল হোসেন খান শার্শায় প্রকাশ্যে পিস্তল প্রদর্শন করে হত্যার হুমকির অভিযোগ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ইন্দোনেশিয়া, সামাল দিতে পুলিশ মোতায়েন ঝালকাঠিতে পেঁপের বাম্পার ফলন, কম দামে লোকসানে কৃষক মঠবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী রাজ মন্দিরে অভিনেত্রী পূজা চেরী সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে চাই : প্রধানমন্ত্রী ভাণ্ডারিয়ায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ ও সম্প্রীতি উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করলেন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী বাকেরগঞ্জে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু দেবালয় পূজামণ্ডপ কাউখালীতে টেইলার্স ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার আখচাষীদের ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

আমতলী মসজিদের নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ

  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : আমতলী উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ কাজ আট বছরেও শেষ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদার ও গণপূর্ত বিভাগের লোকজনের যোগসাজসে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করছেন।

 

আরো অভিযোগ রয়েছে কার্যাদেশ অনুসারে নির্মাণ সামগ্রী না দিয়েই নির্মাণ কাজ করছেন ঠিকাদারের লোকজন। নিম্নমানের কাজের ভিডিও একটি ভাইরাল হয়েছে। এতে মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক বলেন, গণপূর্ত বিভাগের লোকজনকে এ কাজের ১০-১২% ঘুস দিতে হয়। তারপর ঠিকাদারের ব্যবসা। যার ফলে ঠিকাদারী কিছুটা নিম্নমানের কাজ করছেন। জানাগেছে, ২০১৭ সালে ধর্ম মন্ত্রনালয় সারা দেশে মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।

 

২০১৮-১৯ অর্থ বছরে বরগুনা গণপুর্ত বিভাগ আমতলী উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের দরপত্র আহবান করে। ১২ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এ মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ পায় পটুয়াখালীর আবুল কালাম আজাদ ট্রেডার্স নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

 

কার্যাদেশে উল্লেখ আছে দুই বছরের মধ্যে কাজ সমাপ্ত করতে হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরুই করতে পারেনি। ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে মেয়াদ বৃদ্ধি করে কাজ শুরু করেন তারা। কিন্তু কাজ শুরু করেই জমির জটিলতায় কারনে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত চার বছর কাজ বন্ধ ছিল। এদিকে সঠিক সময়ে কাজ শুরু করতে না পারায় ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি বাতিল করে পুনরায় বরগুনা গণপুর্ত বিভাগ দরপত্র আহবান করেন। ২০২৫ সালের জুনে এ কাজ পায় পটুয়াখালী ফিরোজ নামের এক ঠিকাদার। ওই ঠিকাদার গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে কাজ শুরু করেন। কাজের শুরুতেই তিনি নিম্নমানের রড, ইট, সিমেন্ট, ও পাথর দিয়ে কাজ করেন।

 

এ নিয়ে স্থানীয়রা বাঁধায় সপ্তাহখানেক কাজ বন্ধ থাকে। ওই সময় থেকেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ আশরাফুল ইসলাম কাজের তদারকি করেন কিন্তু তাদের অগোচরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের কাজ অব্যহত রাখেন। পরে তারা গণপূর্ত বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে কাজের অনিয়মের বিষয়টি অবহিত করেন। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তাদের কাজ তারা চালিয়ে যান।

 

অভিযোগ রয়েছে গণপুর্ত বিভাগের লোকজনের সঙ্গে আতাত করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করছেন। তদন্ত করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও গণপুর্ত বিভাগের লোকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী এলাকাবাসীর।

 

দীর্ঘদিন মডেল মসজিদ নির্মাণ না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সোমবার সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, খারাপ ইট স্তুপ করে রেখে দিয়েছে। ঠিকাদারের শ্রমিকরা ওই নিম্নমানের ইট দিয়ে মডেল মসজিদের সলিংয়ের কাজ করছেন। এছাড়া ঢালাই কাজের জন্য নিম্নমানের বালু ও পাথর স্তুপ আকারে রাখা হয়েছে।

 

আমতলী পৌর নাগরিক মোঃ  রিপন মুন্সি, জালাল খাঁন ও সফিকুল ইসলাম সোহাগ তালুকদার বলেন, সকল মডেল মসজিদে মুসুল্লীরা নামাজ আদায় করে পুরানো হয়ে গেছে, আর আমাদের মডেল মসজিদে ইট, পাথর ও সিমেন্টের ঘসামাজা চলতেই আট বছর পেরিয়ে গেছে। এখন কাজ চলছে তাতেও রয়েছে অনিয়ম।

 

তারা আরো বলেন, ঠিকাদার দুই নম্বর ইট দিয়ে মসজিদের সলিং কাজ করছেন। নিম্নমানের পাথর দিয়ে ঢালাই দিচ্ছে। এমন কাজের সঙ্গে জড়িত ঠিকাদার ও গণপুর্ত বিভাগের লোকজনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তাদের।

 

ঠিকাদার ফিরোজ মিয়া কাজের অনিয়মের সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দ্রুত গতিতে কাজ চলছে। খারাপ ইট দিয়ে মসজিদের সলিংয়ের কাজ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, আমি এখন কাজে ব্যস্ত আছি, আপনার সঙ্গে কথা বলার সময় নেই।

 

বরগুনা গণপুর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ জহিরুল ইসলাম মিরাজ বলেন, মডেল মসজিদের সলিং করতে কিছু খারাপ ইট আনা হয়েছিল। ওই ইট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে তুলে নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

বরগুনা গণপুর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফয়সাল আলম বলেন, মডেল মসজিদের অনিয়মের বিষয়ে কেউ আমাকে অবহিত করেনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে কাজের অনিয়মের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সমন্বয় সভায় আলোচনা হয়েছে এবং একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে তা আপনী জানেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তা আমার জানা নেই।

 

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, মডেল মসজিদের অনিয়ম বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসকের সমন্বয় সভায় আলোচনা হয়েছে। ওই সভায় গণপূর্ত বিভাগের লোকজন উপস্থিত ছিল। ওই সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক কাজ তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকেই কাজ তদারকি করবেন।

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network