ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় মাদক নির্মূলে নতুন ও কার্যকর কৌশল গ্রহণ করেছে পুলিশ। এখন থেকে মাদকসেবী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের পর বাধ্যতামূলকভাবে ডোপ টেস্ট করানো হচ্ছে। পরীক্ষায় মাদক সেবনের প্রমাণ মিললে তাঁদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুধু মাদকসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার নয়, বরং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক ব্যক্তিদেরও এখন এই পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে। পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল এলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করছে। এরই মধ্যে ডোপ টেস্টের মাধ্যমে মাদক সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হয়ে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাঁদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, মাদক নির্মূলে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছি। কেউ সরাসরি মাদকসহ ধরা না পড়লেও যদি তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকে, তবে ডোপ টেস্টের মাধ্যমে তাঁর মাদকাসক্তির বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। প্রমাণ মিললে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মাদক সেবন করে উগ্র আচরণ বা আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের ক্ষেত্রেও এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডোপ টেস্টের এই কড়াকড়ি মাদকাসক্তি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি এবং চাকরির ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা গেলে সমাজ থেকে মাদকের ভয়াবহতা দূর করা সহজ হবে। পুলিশের এই সময়োপযোগী উদ্যোগে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।