1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
হাঁস-মুরগির দোকানের নাম "বরিশাল ম্যারেজ মিডিয়া"র নেপথ্যে! - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক : ৪ ভারতীয় কোম্পানিকে নিষেধাজ্ঞা দিলো যুক্তরাষ্ট্র পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের শপথ পাঠ করালেন বরিশালের ডিসি বরিশালে বিশ্বজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা হাঁস-মুরগির দোকানের নাম “বরিশাল ম্যারেজ মিডিয়া”র নেপথ্যে! গৌরনদী টিটিসির অনিয়মের সংবাদ ধামাচাঁপায় এআই দিয়ে ‘ভুয়া’ প্রতিবাদ! বরিশালে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে সহপাঠী হত্যা, ৯ বছর পর ১০ বছরের আটকাদেশ মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে বরিশালের লাল শাপলার বিল অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান ঘাটতি দূর করার আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কিনবে টিসিবি উপকূলসহ ৯ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস, ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

হাঁস-মুরগির দোকানের নাম “বরিশাল ম্যারেজ মিডিয়া”র নেপথ্যে!

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল নগরীর চৌমাথা বাজারের কোথাও মাছের হাঁকডাক, কোথাও হাঁস-মুরগি কেনাবেচার ব্যস্ততা। সেই ভিড়ের মধ্যেই একটি দোকানের নাম দেখে থমকে দাঁড়িয়ে যায় অনেকে। দোকানের সাইনবোর্ডে লেখা ‘বরিশাল ম্যারেজ মিডিয়া’।

দোকানের সামনে গিয়ে দেখা যায়, বিয়ের কার্ড কিংবা পাত্র-পাত্রীর ছবি নয়, সাজানো আছে মুরগি, রাজহাঁস ও চিনা হাঁস। এক পাশে কবুতরের বাচ্চা, অন্য পাশে খাসি-ছাগল ও গরুর মাংস। অথচ এই দোকানেই বসে প্রতিদিন কেউ খোঁজেন পাত্র, কেউ পাত্রী। তাহলে কি হাঁস-মুরগির সঙ্গে বিয়েরও কোনো যোগসূত্র আছে? সেই গল্পটা হাঁস-মুরগির নয়, এক ঘটকের দুই দশকের জীবনের গল্প।

দোকানের মালিক শহিদুল ইসলাম স্বপন। প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি ঘটকালির সঙ্গে যুক্ত। তিনি জানান, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় তিনি ২৫০টির বেশি বিয়ে দিয়েছেন। পাত্র-পাত্রীর খোঁজ দিতে গিয়ে পরিচিতি তৈরি হয়েছে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে। সেই পরিচিতি ও অভিজ্ঞতাকেই তিনি কাজে লাগাচ্ছেন এখনও।

 

শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি ঘটক হিসেবে কাজ করি, আবার দেশি মুরগিও বিক্রি করি। দেশি মুরগি, রাজহাঁস, চিনা হাঁস, কবুতরের বাচ্চা থেকে শুরু করে লাইভ ওয়েটে খাসি, ছাগল ও গরুর মাংস বিক্রি করি। আর পাশাপাশি চলে ঘটকালি।

 

কেন এমন নাম রাখা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক ক্রেতা হাঁস-মুরগি কিংবা খাসি কিনতে গিয়ে আমার কাছে ভালো পাত্র বা পাত্রী খোঁজেন। তাদের অনেকের বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আমি নিজে থেকে বেচাকেনার সময় কাউকে বিয়ের কথা বলি না। তবে ফেসবুকে আমার কার্যক্রম দেখে অনেকেই ফোন করেন।

বরিশাল সদর উপজেলার জাগুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম স্বপন স্থানীয় বারেক চাপরাশির ছেলে। তার বরিশাল ম্যারেজ মিডিয়া নামের ফেসবুক ও ইউটিউব কার্যক্রমও রয়েছে। সেখানে বিয়ে-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন তিনি।

স্বপনের ঘটকালির শুরুটা অবশ্য ব্যবসা হিসেবে ছিল না। নিজের এক ভাইয়ের বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজতে গিয়ে তার হাতে কয়েকশ’ পাত্রীর জীবনবৃত্তান্ত আসে। ভাইয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরেও অনেক জীবনবৃত্তান্ত তার কাছে থেকে যায়। সেগুলো থেকেই তিনি অন্য পাত্রদের জন্য পাত্রী খোঁজা শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে পাত্র-পাত্রীর অভিভাবকেরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন। তৈরি হয় বড় একটি যোগাযোগের নেটওয়ার্ক।

একপর্যায়ে তার কাছে এক হাজারের বেশি পাত্র-পাত্রীর জীবনবৃত্তান্ত জমা হয়। তখন ডিশের লাইনের স্থানীয় টিভি চ্যানেল এবং স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে শুরু করেন। এতে বরিশালজুড়ে তিনি ব্যাপক সাড়া পান। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক জনপ্রিয় হলে সেখানেও বিয়ের বিজ্ঞাপন দেওয়া শুরু করেন।

স্বপন বলেন, একসময় চৌমাথা সোনালী ব্যাংকের সামনে আমার অফিস ছিল। পরে বাড়িভাড়া বেড়ে যাওয়ায় অফিস ছেড়ে দিই। আর ম্যারেজ মিডিয়ার ব্যবসায় বিয়ে ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো আয় ছিল না। তাই প্রায় পাঁচ বছর আগে বরিশাল ম্যারেজ মিডিয়া নামেই চৌমাথা বাজারে হাঁস-মুরগি ও খাসি বিক্রির দোকান দিয়েছি।

ঘটকালির আয় সম্পর্কে স্বপনের বক্তব্যও কিছুটা ব্যতিক্রমী। তার দাবি, ঘটকালিতে নানা ধরনের নয়ছয় করে বেশি টাকা আয় করা সম্ভব। কিন্তু তিনি সে পথে হাটেননি। তার ভাষায়, মিথ্যা তথ্য দিয়ে পাত্র বা পাত্রীকে ধনীর ঘরে বিয়ে দিয়ে অর্থ উপার্জন করার সুযোগ থাকলেও তিনি তা করেন না।

তিনি বলেন, আমি সেসব পারি না। পারলে তো বিকল্প ব্যবসা দিতে হতো না। বিয়ের পর দুই পরিবার খুশি হয়ে যা দেয়, তাতেই আমি খুশি। এমনও বিয়ে দিয়েছি, যেখানে ৩০ হাজার টাকা বকশিশ পেয়েছি। আবার সাধারণভাবে একটি বিয়ে করিয়ে দিলে ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব।

তার দাবি, ঘটকালির মাধ্যমে এমনও বিয়ে হয়েছে, যার পরবর্তীতে পাত্র বা পাত্রীকে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখনো তাদের অনেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং সুখে-দুঃখে পাশে থাকেন। স্বপনের কাছে ঘটকালির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দুই পক্ষকে সঠিক তথ্য দেওয়া। তিনি বলেন, নয়ছয় করি না বলেই পাত্র-পাত্রীর জীবনবৃত্তান্তসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দুই পরিবারকে বুঝিয়ে দিই। এরপর তারা নিজেরা যাচাই-বাছাই করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।

চৌমাথা বাজারে তার দোকানে একদিকে ক্রেতারা হাঁস-মুরগি ও মাংস কিনতে আসেন, অন্যদিকে কেউ কেউ খোঁজ নেন পাত্র-পাত্রীর। ফলে দোকানটি এখন শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়, অনেকের কাছে বিয়ের সম্ভাব্য সম্পর্কেরও এক অদ্ভুত ঠিকানা।

শহিদুল ইসলাম স্বপনের স্বপ্ন, জীবনের শেষদিন পর্যন্ত সুনামের সাথে তিনি বরিশাল ম্যারেজ মিডিয়া চালিয়ে যাবেন। তার কাছে ব্যবসার পাশাপাশি ঘটকালি এখন দুই দশকের পরিচিতি, সম্পর্ক ও মানুষের আস্থার একটি অংশ।

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network