উজিরপুরে শেষ সম্বল ভিটেমাটি দখল, এলাকাছাড়া বিধবা নারী!
আপডেট সময় :
রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
উজিরপুরে শেষ সম্বল ভিটেমাটি দখল, এলাকাছাড়া বিধবা নারী!
উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশাল জেলার উজিরপুরে স্বামীর রেখে যাওয়া একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই বসতভিটাটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের নির্যাতন ও লাগাতার হুমকির মুখে অবশেষে নিজের এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন অসহায় এক বিধবা নারী। ঘটনাটি ঘটেছে উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের ভরশাকাঠী গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিধবা নারী নাছিমা বেগম(৫০) এর স্বামী আনোয়ার সিকদার ৩ মাস পূর্বে মারা যান। কয়েকদিন যেতে না যেতেই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তার প্রাপ্ত সম্পত্তির ওপর চোখ পড়ে প্রভাবশালী দেবর রফিকুল ইসলাম সিকদার, জা খুকু মনি ও মেজো দেবরের ছেলে শাওন সিকদারের। ভুক্তভোগী বিধবা নারী মোসাঃ নাছিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন,তার স্বামী মারা যাওয়ার পরপরই তাকে ঘরবাড়ি...
উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশাল জেলার উজিরপুরে স্বামীর রেখে যাওয়া একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই বসতভিটাটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের নির্যাতন ও লাগাতার হুমকির মুখে অবশেষে নিজের এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন অসহায় এক বিধবা নারী। ঘটনাটি ঘটেছে উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের ভরশাকাঠী গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিধবা নারী নাছিমা বেগম(৫০) এর স্বামী আনোয়ার সিকদার ৩ মাস পূর্বে মারা যান। কয়েকদিন যেতে না যেতেই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তার প্রাপ্ত সম্পত্তির ওপর চোখ পড়ে প্রভাবশালী দেবর রফিকুল ইসলাম সিকদার, জা খুকু মনি ও মেজো দেবরের ছেলে শাওন সিকদারের।
ভুক্তভোগী বিধবা নারী মোসাঃ নাছিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন,তার স্বামী মারা যাওয়ার পরপরই তাকে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছিল।
জমিতে চাষাবাদ করতে বাধা দেওয়া এবং গভীর রাতে ঘরের ওপর ঢিল ছোড়াসহ নানাভাবে তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায় এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
তাকে জোরপূর্বক একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এলাকা না ছাড়লে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। অসহায় বিধবা নারী কোন উপায়ান্তর না পেয়ে এবং নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ওই অসহায় নারী তার শেষ সম্বল ভিটেমাটি ফেলে রাতের অন্ধকারেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন।
বর্তমানে তিনি পাশ্ববর্তী গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় আশ্রয় নিয়েছেন। এমনকি সরকারি সহায়তা ঢেউটিন,আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান,ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
একজন বিধবা নারীর ওপর এমন অন্যায় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা তাকে আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।অভিযুক্তদেরএর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদেরকে পাওয়া যায়নি এবং তার মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ১০ অক্টোবর উজিরপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অফিসার ইনচার্জ মোঃ রকিবুল ইসলাম জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।