পটুয়াখালীতে লোকসানে তরমুজ চাষিরা

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ৬ মঙ্গলবার, ২০২১, ০৫:২৯ অপরাহ্ণ
পটুয়াখালীতে লোকসানে তরমুজ চাষিরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ।। পটুয়াখালীতে তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও লকডাউনে বিক্রি কমে যাওয়া এবং পরিবহনে বাড়তি খরচে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন।

 

লকডাউনের সময় পণ্য পরিবহনে যেন কোনো বাধা না আসে এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তরমুজ পৌঁছানোর পাশাপাশি বিক্রির বিষয়ে সরকারকে সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

 

জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার জাহাজমারা গ্রামের তরমুজচাষি ফারুক হোসেন বলেন, ‘লকডাউনে গত বছর তরমুজ কম দামে বিক্রি করেছি। বিক্রি করতে না পারায় অনেক তরমুজ খেতেই নষ্ট হয়েছে।’

 

এ বছর এমন অবস্থায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় তরমুজ বিক্রির দাবি জানান তিনি।

 

গলাচিপা উপজেলার আমখোলা গ্রামের ফেরদৌস জানান, গত বছর লকডাউনে পাইকার এসেও তরমুজ কেনেনি। তাই কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে। এ বছরও লকডাউন থাকলে তরমুজ নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে।

 

লকডাউনে পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, আগে আমখোলা বাজার থেকে এক ট্রাক তরমুজ ঢাকায় পাঠাতে খরচ হত ১৫ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা। কিন্তু এখন ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে।

 

লকডাউনে তরমুজের বাজারেও পড়েছে প্রভাব। পটুয়াখালী শহরের নিউ মার্কেট, পুরান বাজার, হেতালিয়া বাঁধঘাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতার সংখ্যা একেবারেই কম।

 

নিউমার্কেটের তরমুজ ব্যবসায়ী উত্তম কুমার জানান, হঠাৎ লকডাউন দেওয়ায় বাজারে ক্রেতার সংখ্যা অনেক কমে গেছে।

 

তিনি বলেন, ‘লকডাউনের আগে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টি তরমুজ বিক্রি করতাম। কিন্তু, লকডাউন শুরুর পর থেকে ৫০টির বেশি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে না।’

 

হেতালিয়া বাজারের ব্যবসায়ী আবুল হোসেন জানান, লকডাউনের কারণে মানুষ ঘর থেকে বের হতে চায় না। তাছাড়া কাজের সুযোগও কমে যাওয়ার কারণে তরমুজের ক্রেতা নেই বললেই চলে। এতে তরমুজের চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দামও কমে গেছে।

 

লকডাউনের আগে প্রতি কেজি তরমুজ ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকা হারে বিক্রি হলেও এখন মাত্র ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তারা।

 

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, এ বছর পটুয়াখালী জেলায় ১৪ হাজার ২৩৬ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে রাঙ্গাবালী উপজেলায় সর্বোচ্চ সাত হাজার ৩০০ হেক্টর, গলাচিপায় পাঁচ হাজার হেক্টর, কলাপাড়ায় ৬১০ হেক্টর, বাউফলে ৯০০ হেক্টর, দশমিনায় ১৫০ হেক্টর, সদর উপজেলায় ২৬৮ হেক্টর, মির্জাগঞ্জে পাঁচ হেক্টর ও দুমকি উপজেলায় তিন হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে।

 

উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে চার লাখ ৯৮ হাজার ২৬০ মেট্রিক টন।

 

লকডাউনে উৎপাদিত তরমুজ নিয়ে কৃষকদের ক্ষতির আশঙ্কা প্রসঙ্গে পটুয়াখালীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মহিউদ্দিন বলেন, জেলায় ইতিমধ্যে ৭০ শতাংশ তরমুজ খেত থেকে তোলা হয়েছে এবং তা ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে গেছে।

 

তবে এখনো খেতে যে তরমুজ আছে, তা যেন দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো যায় সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]