বরিশালে টিসিবি’র ডিলারদের প্যাকেজ বিড়ম্বনায় নিন্মআয়ের মানুষ

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ১৯ সোমবার, ২০২১, ০৫:০৪ অপরাহ্ণ
বরিশালে টিসিবি’র ডিলারদের প্যাকেজ বিড়ম্বনায় নিন্মআয়ের মানুষ

এম.কে. রানা ॥  পবিত্র রমজানে বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সারাদেশের ন্যায় বরিশালেও ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু টিসিবি’র বরিশালের ডিলারদের পণ্য বিক্রিতে প্যাকেজ বিড়ম্বনায় গরীব ও অসহায় মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারের দেওয়া স্বল্প মূল্যের এ পণ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

 

রমজান শুরু হওয়ার পর থেকেই বরিশাল নগরীর বিভিন্ন স্থানে এনিয়ে ডিলার ও ক্রেতাদের মধ্যে বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটেছে। যদিও ডিলারদের কার্যক্রম তদারকির জন্য একজন করে ট্যাগ অফিসার নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু অনেক স্থানেই ট্যাগ অফিসারও টিসিবি’র পণ্য বিক্রির নিয়মাবলী জানেন না বলে জানা গেছে। কোন কোন স্থানে ডিলার দ্বারা ট্যাগ অফিসার নিয়ন্ত্রিত হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে টিসিবি’র পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে কোন ধরণের প্যাকেজ পদ্ধতি চালু করা যাবেনা বলে জানিয়েছেন টিসিবি’র বরিশাল অফিস প্রধান।

 

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) সূত্রে জানা গেছে, রমজান উপলক্ষে সারাদেশে একযোগে গত ১ এপ্রিল থেকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়। যা চলবে আগামী ৬ মে পর্যন্ত। প্রত্যেক ডিলার প্রতি দৈনিক বরাদ্দের পরিমান ৮০০-১২০০ কেজি চিনি, ৬০০-৭৫০ কেজি মশুর ডাল, ৪০০-১০০০ কেজি ছোলা, ১২০০-১৫০০ লিটার সয়াবিন তেল, খেজুর ১০০ কেজি ও ৩০০-১০০০ কেজি পিয়াঁজ। যার প্রতিকেজি মূল্য চিনি ৫৫ টাকা, মশুর ডাল ৫৫, ছোলা ৫৫, পিয়াঁজ ২০, খেজুর ৮০ ও সয়াবিন তেল ১০০ টাকা।

 

গত কয়েকদিন বরিশাল নগরীর বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রত্যেক ডিলার ৪/৫টি পণ্যের প্যাকেজ হিসেবে বিক্রি করছেন। এগুলো হচ্ছে তেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও পিঁয়াজ। যার মূল্য দাড়ায় ৮শ ৭৫ থেকে ১ হাজার টাকার উপরে। কেননা কোন কোন ডিলার ছোলা ৫ কেজি, চিনি ৫ কেজি, সয়াবিন তেল ২ লিটার, মশুর ডাল ১ কেজি এ চারটি পণ্যের প্যাকেজমূল্য দাড়ায় ৮০৫ টাকা।

 

কেউবা আবার ৩ কেজি ছোলা, দুই কেজি চিনি, ২ লিটার সয়াবিন, ৫ কেজি পিয়াঁজ প্যাকেজ হিসেবে বিক্রি করছেন ৫৭৫ টাকায়। অনেকের কাছেই এ প্যাকেজ কেনা সম্ভব নয়। আর ডিলাররা প্যাকেজ বিক্রিতে অনড় থাকায় অনেককেই খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে।

 

নগরীর কাউনিয়া এলাকায় টিসিবি’র পণ্য কিনতে আসা ক্রেতা রিক্সাচালক রিপন জানান, বাজারে দ্রব্যমূল্য বেশি হলেও সরকার গরীবদের জন্য ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করছে। কিন্তু ডিলাররা প্যাকেজ ছাড়া বিক্রি করছেন না। তিনিসহ আরো অনেকেই অভিযোগ করেন, সারা রমজানেও দরিদ্র একটি পরিবারে ৩ বা ৫ কেজি ছোলা খেয়ে শেষ করতে পারবে না।

 

নগরীর লঞ্চঘাট এলাকায় লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন রাজমিস্ত্রির সহযোগি দিনমজুর রাব্বি। তার প্রয়োজন চিনি আর তেল। কিন্তু ডিলার প্যাকেজ না নিলে কোন পণ্য দিচ্ছে না। এরকম লাইনে দাঁড়ানো অনেক নারী পুরুষ টাকা না থাকায় পুরো প্যাকেজ কিনতে পারছেন না। একই চিত্র দেখা গেছে, নগরীর কাউনিয়া, লঞ্চঘাট, হাতেম আলী কলেজ এলাকায়।

 

ইয়ামিন এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী ডিলার মামুন বলেন, আমাদের সব মালামাল চলে না, তাই এভাবে প্যাকেজ করে বিক্রি করতে হচ্ছে। এটা বৈধ না অবৈধ সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। এক পর্যায়ে তিনি নিজেকে স্থানীয় একটি পত্রিকার সহ-সম্পাদক পরিচয় দিয়ে এ প্রতিবেদককে উল্টো হুমকি দেন। এ সময় টিসিবি’র বরিশাল অফিস প্রধান শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে বিষয়টি জানালে তিনি ডিলারকে মুঠোফোনেই শাসিয়ে দেন এবং কোন প্যাকেজ সিস্টেম করা যাবে না বলে জানান।

 

টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, কোন ডিলার যদি নির্ধারিত সময়ে উত্তোলনকৃত পণ্য বিক্রি করতে না পারেন তাহলে ট্যাগ অফিসারের প্রত্যয়ন নিয়ে ওই পণ্য নিজস্ব মুদি দোকানে রেখে টিসিবি’র নির্ধারিত মূল্যেই ব্যানার টানিয়ে বিক্রি করবেন।

 

ডিলারশিপ নিতে হলে একজন ডিলারের মুদি দোকান থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বরিশালে অধিকাংশ ডিলারই নিজেদের কোন মুদি দোকান না থাকলেও চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের ডিলারশীপ।

 

এ ব্যাপারে টিসিবি’র বরিশাল অফিস প্রধান শহিদুল ইসলাম বলেন, প্যাকেজ হিসেবে কোন পণ্য বিক্রির নিয়ম নেই। যার যা প্রয়োজন ভোক্তার কাছে তা-ই বিক্রি করতে হবে। এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ পেলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]