শহীদ হতে জিহাদের ডাক চাই বলে শিশুবক্তা রফিকুলের উস্কানি

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ৭ বুধবার, ২০২১, ০৫:০০ অপরাহ্ণ
শহীদ হতে জিহাদের ডাক চাই বলে শিশুবক্তা রফিকুলের উস্কানি

বরিশালক্রাইমট্রেস ডেস্কঃ রাষ্ট্রবিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ‘শিশুবক্তা’ মাওলানা রফিকুল ইসলামকে নেত্রকোণা থেকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

 

বুধবার (৭ এপ্রিল) র‍্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক ইমরান খান সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতার হবার আগে মঙ্গলবার (০৬ এপ্রিল) রাতে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসেছিলেন এই ইসলামি বক্তা। এ সময় তিনি সরকারের তীব্র সমালোচনা ছাড়াও রাষ্ট্রবিরোধী উস্কানিমূলক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মতো বক্তব্য দেন।

 

রফিকুল ইসলাম ফেসবুক লাইভে বলেন, ‘কোন্ দল ক্ষমতায় আসলো বা কোন্ দল ক্ষমতা থেকে গেল তা আমাদের দেখার বিষয় নয়। তবে এই মাফিয়া সরকার ও মুরতাদদের হাত থেকে ইসলামকে রক্ষা করতে হবে। আজকের এই বক্তব্যের পর আমি আবার গ্রেফতার হতে পারি, আমাকে ধরে নিয়ে লাঞ্ছিত করা হতে পারে কিন্তু আমি সেসবের তোয়াক্কা করি না।

তিনি আরো বলেন, ‘মাওলানা মামুনুল হককে যদি এভাবে আক্রমণ করা হতে পারে, তার দাড়ি ধরে যেভাবে টানাটানি করে লাঞ্ছিত করা হয়েছে সেখানে আমি রফিকুল ইসলামকে মেরে ফেললেই বা কি হবে?

এ সময় রফিকুল ইসলাম সব ইসলামিক দলকে এক হবার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘সবগুলো দল এক হয়ে একজন আমিরের অধীনে আসেন। আমির ডাক দিলে আমরা পুরো বাংলাদেশ অচল করে এই মাফিয়া সরকারের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করবো। দরকার হলে ক্ষমতা সেনাবাহিনীর হাতে যাবে, তবুও এই মুরতাদ সরকারের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজ ছাত্রলীগ-যুবলীগ এতই হিংস্র হয়েছে, যে কোনো সময় তারা আপনি বা আমাকে গুলি করে মেরে ফেলবে। তারা এমন হায়েনা হয়েছে যেখানে সেখানে আপনাকে আমাকে একটা একটা করে ধরবে। আমাদেরকে ধরার সুযোগ দেওয়া যাবে না। এরা আমাদের জিম্মি করে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়। আমরা কাউকে ক্ষমতা থেকে উঠানো বা নামানোর কথা বলছি না। তবে এই মাফিয়া সরকারকে আমাদের দূর করতে হবে। তবেই আমাদের চূড়ান্ত সফলতা আসবে। এখানে-সেখানে ভেঙে-ভেঙে মিছিল মিটিং করে লাভ হবে না।

ফেসবুক লাইভে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গোয়েন্দাবাহিনী সারাদিন আমাদেরকে ফলো করে। রাস্তায় টুপি পরে বের হওয়া যায় না। মাথা নিচু করে চলতে হয়। এভাবে চলতে চাই না। জিহাদের ডাক চাই। সেই জিহাদে শহীদ হবো। আমাদের মরার ভয় নাই। তবে মরার জন্য একটা প্ল্যাটফর্ম লাগবে। লাখ লাখ যুবক প্রস্তুত হয়ে আছে শুধু মাত্র একটা ডাকের আশায়।

এ সময় তিনি হেফাজত নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘একটু মামলা-হামলায় যদি আপনারা ভয় পান তাহলে হেফাজতের নেতা থাকার দরকার নাই। আপনারা পদবি ছেড়ে সরে যান। আপনারা যদি সঠিকভাবে আগাতে পারেন তাহলে ২০ লাখ যুবক মরতেও দ্বিধা করবে না। জাতি আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। হয় মারবো না হয় মরবো, এটাই আপনাদের নীতি হওয়া দরকার।’
এরপর সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘এই সরকারকে চালায় হিন্দুত্ববাদীরা। মোদি সরকার। মোদি যেভাবে চায় সেভাবেই তারা দেশ চালায়। দেশের মন্দিরে মন্দিরে এখন ফুল থাকে আর মসজিদে থাকে রক্ত। মোদির বিরুদ্ধে কথা বললেই সবাইকেই জেলে যেতে হয়। লকডাউনের নামে মসজিদ মাদরাসা বন্ধ করে দেবে। মসজিদ থেকে পিটিয়ে পিটিয়ে সবাইকে ধরবে। আমরা এসব চাই না। আমরা সুন্দর করে ইসলাম নিয়ে বাঁচতে চাই।

এরপর তিনি বারবার বলেন, ‘আজকের পর আমি গুম হতে পারি, জেলে যেতে পারি। তবে কুচ পরোয়া নেহি। কারণ মুমিনরা জান্নাতের আশা করে। আমি মরতে প্রস্তুত। আমি আল্লাহর জন্য কাজ করে যেতে চাই।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]