ভা-ারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি: পিরোজপুরের ভা-ারিয়ায় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে ধর্ষণ, তালাক দিতে বাধ্য করা এবং পরে মারধর ও স্বর্ণালংকার-টাকা লুটপাটের অভিযোগে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী হালিমা আক্তার (২৮), গোলবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত আইউব আলী সিকদারের মেয়ে। তিনি দুই সন্তানের জননী। তিনি বাদী হয়ে ভা-ারিয়া থানায় এ অভিযোগ করেন।
এজাহারে উল্লেখিত আসামিরা হলেন মোঃ মাহফুজ আকন (২৮), মোঃ মিজান আকন (৩৫), মোঃ জাহাঙ্গীর আকন (৬০), আল আমিন হাওলাদার (৪৯), মোঃ হাসান (৩০), মোঃ আনোয়ার হোসেন সেপাই (২৯), মোঃ কাওছার খান (২৮), মোঃ মনির আকন (২৭) ও সাইফুল ইসলাম (২৮)। তারা সবাই উপজেলার তেলিখালী ইউনিয়নের জুনিয়া এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী দেলোয়ার খানের সঙ্গে হালিমার বিয়ে হয় এবং তাদের সংসারে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। এরই মধ্যে পূর্বপরিচিত মাহফুজ আকনের সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মাহফুজ আকন তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে।
এরপর হালিমা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন। গত ২৬ মার্চ মাহফুজ তার ঢাকার বাসায় যান এবং ২৭ মার্চ দুপুর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। এসময় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। ঘটনার সময় স্থানীয়রা মাহফুজকে আটক করলে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। পরে ফতুল্লা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়কে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে মাহফুজের ভাই মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। আসামির কথায় বিশ্বাস করে তিনি তার স্বামীকে তালাক দেন। কিন্তু তালাকের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে আসামিরা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় এবং তাকে এড়িয়ে চলতে থাকে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় হালিমা অভিযুক্ত মাহফুজ আকনের বাড়িতে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অন্যান্য আসামিরা তাকে ঘিরে ফেলে এবং এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার, নগদ ৮ হাজার ৩০০ টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, নির্যাতনের একপর্যায়ে তাকে জোর করে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পথেও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় সড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় আসামিরা। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে ঘ ভুক্তভোগী ৬এপ্রিল রাতে ভা-ারিয়া থানায় এজাহার দায়ের করেন।
এ বিষয়ে ভা-ারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জগলুল হাসান জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।