মোঃমনছুর আলম,জেলা প্রতিনিধি ভোলা : ভোলার আলীনগর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ভুয়া দলিল তৈরি করে কোটি টাকার জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। ‘নুরজাহান’ নামের এক কাল্পনিক ব্যক্তিকে জমির মালিক সাজিয়ে তিনি ভুয়া খতিয়ান ও নামজারি তৈরি করেছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। এছাড়াও তার এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে এলাকায় জমি দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালে ২৯০৪ নম্বর দলিলে একটি মিথ্যা ডিপি খতিয়ান (ডিপি নম্বর: ৫৭০, ৮৪০, ১৪২৬) ব্যবহার করে ৭৪ শতাংশ জমি নিজের বাবা আবদুল হাই ও মা রহিমা বেগমের নামে দলিল করিয়ে নেন মাকসুদ মেম্বার। অথচ ওই জমির মূল দলিল ও ডিপি রেকর্ডে ‘নুরজাহান’ নামের কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব নেই। এমনকি ৪৯ নম্বর খতিয়ানের ২১টি নামজারিতেও ওই নামের কারো মালিকানা পাওয়া যায়নি। এই চরম জালিয়াতি ও ভুয়া দলিলকে পুঁজি করে মাকসুদ মেম্বারের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ১৩৪ শতাংশ জমি গায়ের জোরে ভোগদখল করে আসছে।
জমির প্রকৃত মালিক কবির হোসেন ও তার অংশীদাররা জালিয়াতির বিষয়টি জানতে পেরে নিজেদের সম্পত্তি ফেরত চাইতে গেলে তাদের ওপর নেমে আসে নির্যাতন। ভুক্তভোগী কবির হোসেন বলেন, “আমাদের মূল খতিয়ান বা দলিলে ‘নুরজাহান’ নামে কারো অস্তিত্বই নেই। মাকসুদ মেম্বার ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে জমি দখল করে রেখেছে। আওয়ামী লীগ আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সে এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। আমরা জমি ফেরত চাইতে গেলে তার ক্যাডার বাহিনী আমাদের একাধিকবার মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। আমরা চরম আতঙ্কে আছি এবং প্রশাসন যেন আমাদের জমি বুঝিয়ে দেয়, সেই জোর দাবি জানাচ্ছি।”
মাকসুদ মেম্বার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণও মিলেছে। জানা যায়, গত ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে দুলাল নামের এক ব্যক্তি মাকসুদুর রহমান, ফরিদ, মাহফুজুর রহমান ও নাজিমের বিরুদ্ধে আদালতে ৩৫০ ধারায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্তরা অস্ত্র ঠেকিয়ে দুলালের কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তারা তাকে মারধর করে জোরপূর্বক ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। ওই মামলায় পুলিশের চার্জশিটেও মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার সত্যতা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, মাকসুদ মেম্বারের ভাই মোহাম্মদ রাসেলকে সম্প্রতি ৫ কেজি গাঁজাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছিল ভোলা সদর থানা পুলিশ। ওই মাদক মামলায় রাসেল জেলও খেটেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, মাকসুদ মেম্বার ও তার ভাই রাসেল এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে জমি দখল, মাদক ব্যবসা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করাই তাদের মূল কাজ। ভুক্তভোগী পরিবার ও আলীনগরের সাধারণ জনগণ অবিলম্বে ২০১৩ সালের সেই অবৈধ দলিল বাতিলসহ জালিয়াতি চক্রের মূল হোতা মাকসুদ মেম্বার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মাকসুদুর রহমান মেম্বারের মুঠোফোনে কল করা হলে, সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি কলটি কেটে দেন। পুনরায় কল করলে নেটওয়ার্ক সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে তিনি আবারও লাইন কেটে দেন। পরবর্তীতে কল করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।