নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট-ব্রির বরিশাল কেন্দ্রে ‘আধুনিক ধান চাষ এবং ব্লাস্ট রোগ ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণে এ রোগের ক্ষতিকর দিকসহ তা থেকে উত্তরণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) মহানগরীর ব্রি মিলনায়তনে বিএএস-ইউএসডিএ ব্রি সিআর-২-এর উদ্যোগে এই প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহম্মদ আশিক ইকবাল খান।
ব্রির ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হাসিনা খাতুনের সভাপতিত্বে এই প্রশিক্ষণে জানানো হয়, ‘ব্লাস্ট’ ফসলের ছত্রাকজনিত একটি রোগ। ধানের তিন অবস্থায় এই রোগের আক্রমণ হয়। পাতায় হলে পাতা ব্লাস্ট, গিঁটে হলে গিঁট ব্লাস্ট আর শিষে হলে শিষ ব্লাস্ট বলে অভিহিত করা হয়। মেঘলা আকাশ, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, দিন ও রাতে তাপমাত্রার বড় পার্থক্য কিংবা দীর্ঘক্ষণ কুয়াশা জমে থাকার কারণে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়।
তবে প্রতিকারের জন্য রোগের প্রাথমিক অবস্থায় অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ৭ দিন পরপর ২ বার ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বালাইনাশক প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিকেল বেলাকে বেছে নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ, সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ধানের ফুল ফোটার সময়। এ সময়ে স্প্রে করলে পরাগায়নে বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে ধানের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়ে থাকে।
প্রশিক্ষণে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের আলুবীজ হিমাগারের উপপরিচালক কেএম আখতার হোসেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক, মেহেন্দিগঞ্জের বেসরকারি সংস্থা আরোহীর নির্বাহী পরিচালক মো. খোরশেদ আলম, নলছিটির পরমপাশা জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম সাহেব, বাকেরগঞ্জের কৃষক মো. কাঞ্চন আলী হাওলাদার প্রমুখ।
দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত ও কৃষক মিলে ৩০ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।