নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের মুলাদীতে ঘুমন্ত স্বামীর অণ্ডকোষ চেপে হত্যার পর লাশ বাড়ির পেছনে মাটিচাপা দিয়ে রাখেন স্ত্রী। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে বাড়ির পাশ থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় স্বামীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী সেলিনা বেগমকে (৪৬) আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এমন চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে জানান, মুলাদী থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার সোহেল রানা।
ঘটনাটি ঘটেছে মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের চরমালিয়া গ্রামে। স্ত্রীর হাতে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হারুন হাওলাদার ওই গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুন থেকে হারুন হাওলাদার রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন। তার স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে ঘটনার পরদিন ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান মুলাদী থানায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
এদিকে, সোমবার সকালে হারুন হাওলাদারের বাড়ির পেছনে একটি নির্দিষ্ট স্থানে মাটি আলগা অবস্থায় দেখতে পান প্রতিবেশীরা। স্থানটি বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢাকা ছিল। এতে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।
তারা কঞ্চি সরিয়ে কিছুটা মাটি খুঁড়তেই মরদেহের একাংশ বেরিয়ে আসে। খবর পেয়ে মুলাদী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি খুঁড়ে হারুন হাওলাদারের মরদেহ উদ্ধার করেন।
অন্যদিকে- নিহতের স্বজনদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী সেলিনা বেগমের পরকীয়া প্রেম নিয়ে স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। এরপর হঠাৎ করেই নিখোঁজ হন তিনি। নিখোঁজের পর থেকেই স্ত্রী সেলিনা বেগমের কথাবার্তা ও আচরণ রহস্যজনক হয়ে ওঠে।
মুলাদী থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার সোহেল রানা বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে নিহতের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।
ওসি জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে নিখোঁজ হওয়ার রাতে হারুন অর রশিদকে অণ্ডকোষ চেপে হত্যা করে তার স্ত্রী। পরে আতঙ্কিত হয়ে লাশ লুকিয়ে ফেলতে বাড়ির পেছনে মাটি খুঁড়ে সেখানে চাপা দিয়ে রাখে। পুরো হত্যাকাণ্ড এবং লাশ মাটিচাপা দেওয়ার কাজটি তিনি একাই করেছেন বলে জানিয়েছে স্ত্রী।
তবে এর পেছনে অন্য কেউ আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলাও হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগমকে বরিশাল আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ওসি।