1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
সিলেটে আ.লীগ নেতা, তার স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী বরিশালে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি, নদী বন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত পটুয়াখালীতে লঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টি, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত সকলের মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন করা হবে : চিফ হুইপ তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘে বাংলাদেশের মনোনীত স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খানের সাক্ষাৎ বিএনপি থেকে পদত্যাগ করলেন মির্জা ফখরুল জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের স্থাবর নিদর্শনের ক্ষতি করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড বাকেরগঞ্জে মৃত্যুর কাছে হেরে গেলেন বোমা বিস্ফোরণে গুরুত্বর দগ্ধ হনুফা আগৈলঝাড়ায় ওসির নেতৃত্বে ইয়াবাসহ ছয় জন ব্যবসায়ী গ্রেফতার গৌরনদীতে নয়জন কর্মকর্তাকে বিদায়ী সংবর্ধনা

সিলেটে আ.লীগ নেতা, তার স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

  • আপডেট সময় : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ও সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহপরিচারিকা মালু বেগমের (৭৬) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টা ও সিলেট চেম্বারের পরিচালক ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাসায় সস্ত্রীক বসবাস করছিলেন। তাদের দেখাশোনা করতেন গৃহপরিচারিকা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ঘটনাটি তদন্তে পুলিশ, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও ডিবি কাজ করছে। পুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। ক্রাইম সিন পরীক্ষা, বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ, সুরতহালসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসার সিসিটিভি ক্যামেরা সচল ছিল না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার আগেই কেউ বাসায় প্রবেশ করে থাকতে পারে। তবে পুরো এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ না করা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

ডিসি বলেন, এখন পর্যন্ত আশপাশ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোনো ছুরি বা অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত, সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের আঘাত করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি।

পুলিশ কমিশনার জানান, ঘরের আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেখান থেকে স্বর্ণালঙ্কার বা মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চারতলার ভাড়াটিয়ারা সকালে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনেছেন বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে ডাকাতি, পারিবারিক শত্রুতা কিংবা পূর্ববিরোধ—সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দলিলও উদ্ধার হয়েছে, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সিআইডি, পিবিআই ও পুলিশের বিশেষায়িত টিম একযোগে কাজ করছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিভিন্ন তথ্যের সহায়তায় দ্রুত জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কারও কাছে তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ ফকরুল ইসলাম, সিলেট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির নজরুল ইসলাম বাবুলসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তারা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।

নিহত আব্দুস সাত্তার ব্যবসায়ী ছিলেন এবং সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সদস্যও ছিলেন। তিনি রায়নগরে নিজের বাসাতেই থাকতেন। তার চার সন্তানের মধ্যে দুইজন লন্ডনে এবং দুইজন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন।

নিহত দম্পতির ভাগনে মুন্না মিয়া বলেন, রায়নগরের বাসায় আমার মামা-মামি একাই থাকতেন। তাদের সঙ্গে একজন গৃহপরিচারিকা থাকতেন। বুধবার সকাল ৯টার দিকেও তাদের সঙ্গে কথা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সকাল ৯টার পর কোনো এক সময় তাদের হত্যা করা হয়েছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মোহাম্মদ মঈনুল জাকির বলেন, এই দম্পত্তির চার সন্তারে মধ্যে দুই সন্তান লন্ডনে ও দুই সন্তান আমেরিকায় থাকেন। আমরা স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাই। এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে।

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network