চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি: চরফ্যাশন উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’ এর শুমারিকালীন তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব, স্বজনপ্রীতি,নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং কম্পিউটার পরিচালনায় সম্পূর্ণ অযোগ্য ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করার অভিযোগ তুলেছেন নিয়োগপ্রত্যাশী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রকৃত দরিদ্রদের তালিকা প্রণয়নের জন্য দেশব্যাপী এই শুমারি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বুধবার মধ্যরাতে চরফ্যাশন উপজেলায় তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের পরিক্ষার রেজাল্ট প্রকাশ করেন সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুন হোসেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে, শুরু থেকেই সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে ব্যাকডেটেড উপায়ে পছন্দের প্রার্থীদের সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করেছেন এ কর্মকর্তা। নিয়োগ বোর্ড গঠনের পূর্ব থেকেই নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের সাথে আতাত করে তাদের নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার পায়তারা করেন এ কর্মকর্তা। সমাজ সেবা কর্মকর্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের যারা নিয়োগ প্রত্যাশী তাদের নাম তালিকা করে এই কর্মকর্তা ও প্রশাসকেও অবহিত করা হয়। তাদেরকে অবহিত করার পরও শেষমেষ তাদের অনেকের নাম প্রকাশ করেন তিনি। তাদেরকে অবহিতের পরও নাম প্রকাশ করায় ক্ষোভে ফেটে পরেন নিয়োগ প্রত্যাশীরা।
কম্পিউটার চালনায় ন্যূনতম জ্ঞান নেই এবং ভাইভাতে অত্যন্ত দুর্বল পারফর্ম করা সত্বেও নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীকে চুড়ান্ত তালিকায় রাখার জন্য জোর লবিং করেন। মেধা ও যোগ্যতাকে মূল্যায়ন না করে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব এবং সমাজসেবা কর্মকর্তার নিজস্ব আত্মীয় স্বজন ও পরিচিতদের নিয়োগ দেয়ার জন্য গোপনে তালিকা প্রস্তুত করেন তিনি।
পরীক্ষার নম্বর এবং মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরণের স্বচ্ছতা রাখা হয়নি বলে দাবি করেছেন পরীক্ষা দেয়া একাধিক সাধারণ প্রার্থী।
নিয়োগ বঞ্চিত কয়েকজন তরুণ অভিযোগ করে জানান, “যেখানে তথ্য সংগ্রহের পুরো কাজটি ডিজিটাল ট্যাবের মাধ্যমে এবং অনলাইনে করতে হবে, সেখানে ট্যাব ব্যবহার করতে পারে না এমন অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সমাজসেবা কর্মকর্তা আর্থিক লেনদেন ও দলীয় প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করে প্রকৃত যোগ্যদের বাদ দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ কারিরা জানান।” স্থানীয় শাহাদাত হোসেন সুজন বলেন, এখানে নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এভাবে চললে সরকারের এ সামাজিক উন্নয়নে সুনাম ক্ষুন্ন হবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ও চাকরিপ্রত্যাশীরা এই নিযােগ প্রক্রিয়া অনতিবিলম্বে স্থগিত করে জেলা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তত্তাবধানে পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায়, চরফ্যাশনে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছন বঞ্চিত প্রার্থীরা।
স্থানীয় জাহাঙ্গীর আলম তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির শুমারী তালিকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তালিকা প্রণয়নে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি করেন তিনি। সোহাগ হোসেন নামের একজন শুমারী পরিক্ষায় অংশগ্রহণকারী নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের তালিকাভুক্ত করায় স্থানীয় উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সাইফুল ইসলাম রুবেল বলেন,আমি পূর্বেও অন্যান্য শুমারী কার্জক্রম ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও ডিগ্রি পাসের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি পরিক্ষায় অংশ নিয়েও দলীয় প্রভাবে লোকবল নেয়ায় তালিকায় আমার নাম নেই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনিয়মের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, “নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটি বিধি মোতাবেক এবং বোর্ডের মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে কোনো ধরণের স্বজনপ্রীতি বা রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ নেই।”