1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
সাতদিন ধরে বিদ্যুৎহীন মসজিদ, তীব্র গরমে দুর্ভোগে মুসল্লিরা - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ডিজিটাল উন্নয়ন ও তথ্যপ্রাপ্তি নিয়ে জাতিসংঘের পরামর্শক গোষ্ঠীতে বজলুর রহমান বাকেরগঞ্জে ১০০ ফুটের সেতু ৫ বছর ধরে মরণফাঁদ, কাঠের মাচায় ঝুলছে দুই ইউনিয়নের ভাগ্য দিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে আটক শতাধিক অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করল গ্রিস গরুর কথা বলে ঘোড়ার মাংস বিক্রি, কসাইয়ের কারাদণ্ড চাঁদপুরে গ্রামীণ ব্যাংক ভবনে দুর্বৃত্তের আগুন, থানায় অভিযোগ সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর উদ্যোগে ‘চাকরি মেলা’, ৮০টি প্রতিষ্ঠানে মিলবে তাৎক্ষণিক চাকরি নাস্তা কম দেওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধর, ৯ দিন পর মৃত্যু বল প্রয়োগ করলে ফ্যাসিবাদী, না করলে দুর্বল: আইজিপি বরিশালে লক্ষ্মীর হাটে প্রতিমা-কলাগাছ কিনতে ভক্তদের ভিড়

সাতদিন ধরে বিদ্যুৎহীন মসজিদ, তীব্র গরমে দুর্ভোগে মুসল্লিরা

  • আপডেট সময় : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে টানা সাতদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। এতে তীব্র গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা। বিদ্যুৎ না থাকায় বন্ধ রয়েছে বৈদ্যুতিক পাখা, আলো, মাইক ও এসিসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। একই সঙ্গে পানির পাম্পও বন্ধ থাকায় মসজিদে অযুর পানির ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে।

মসজিদ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মসজিদের জেনারেটর কক্ষে হঠাৎ বিকট শব্দ হতে থাকে। বিষয়টি টের পেয়ে মসজিদের খাদেম মো. দেলোয়ার হোসেন ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেন। পরে কক্ষের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, ব্রেকারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ পড়ে গেছে। এরপর থেকেই মসজিদের অভ্যন্তরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে।

প্রতিদিন মসজিদটিতে আড়াই থেকে তিন শতাধিক মুসল্লি একসঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় করেন। শুক্রবার জুমার নামাজে ছয় থেকে সাত শতাধিক মুসল্লির সমাগম হয়। নারী মুসল্লিরাও নিয়মিত এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন। বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমের পাশাপাশি অযুর পানি না থাকায় নারী-পুরুষ উভয় মুসল্লিকেই চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

মসজিদের খাদেম মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় বর্তমানে মুসল্লিদের অযুর ব্যবস্থা একেবারেই বন্ধ। মসজিদের স্টাফদের প্রয়োজনীয় কাজের জন্য বাইরে থেকে বালতিতে করে পুকুরের পানি এনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।’

মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি আলি হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় মসজিদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে তীব্র গরমে মুসল্লিদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। অযুর পানি না থাকায় নামাজের সময় মুসল্লিদের বাইরে গিয়ে অযু করতে হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হলে মুসল্লিদের দুর্ভোগ কমবে।’

মুসল্লি মো. সরোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, ‘মসজিদে অযুর ব্যবস্থা নেই—এটা অনেক সময় মনে থাকে না। নামাজের সময় দ্রুত জামাত ধরতে মসজিদে অযু করতে এসে পানি না পেয়ে আবার বাইরে গিয়ে অযু করে আসতে হয়। এতে অনেক সময় জামাত চলে যায়। পরে জামাত না পেয়ে একা নামাজ আদায় করতে হয়। দ্রুত এ সমস্যার সমাধানে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার গণপূর্ত বিভাগের একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মসজিদটির বৈদ্যুতিক সমস্যা পরিদর্শন করেছেন। মসজিদটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজাপুর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘বিদ্যুতের খুঁটি থেকে মিটার হয়ে মেইন সুইচ পর্যন্ত আমাদের বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্ব। ওই পর্যন্ত বিদ্যুৎ সচল রয়েছে। মেইন সুইচের পর ভেতরে কী হয়েছে, সেটা তাদের বিষয়। সেখানে হাত দেওয়া আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।’

রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, ‘গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এসে দেখে গেছেন। ভেতরের কিছু যন্ত্রাংশ পড়ে গেছে বলে তারা জানিয়েছেন। এটি ঠিক করতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও তারা জানিয়েছেন।’

এদিকে টানা সাতদিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে মুসল্লিদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে শুক্রবার জুমার নামাজে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সমাগম হওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় পাখা, আলো, মাইক ও এসি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি পানির পাম্প বন্ধ থাকায় অযুর পানির সংকটও তৈরি হয়েছে।

মুসল্লিদের অভিযোগ, একটি মডেল মসজিদে নিয়মিত বিপুলসংখ্যক মানুষের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকলেও টানা সাতদিন ধরে বিদ্যুৎ ও অযুর পানির মতো মৌলিক সুবিধা বন্ধ থাকা দুর্ভোগের বিষয়। দ্রুত বৈদ্যুতিক ত্রুটি মেরামত করে মসজিদের বিদ্যুৎ ও অযুর পানির ব্যবস্থা সচল করার দাবি জানিয়েছেন তারা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করবে—এমন প্রত্যাশা মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের।

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network