নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পর ঢাকা-বরিশাল নৌপথে যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। নতুন নির্ধারিত হারে ডেকের ভাড়া প্রায় ১৭ শতাংশ এবং কেবিনের ভাড়া ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। মঙ্গলবার থেকে এই ভাড়া কার্যকর হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও লঞ্চ মালিকদের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বরিশাল-ঢাকা রুটে চলাচলকারী মানামা লঞ্চের ম্যানেজার জিয়াউল হাসান বলেন, আগের ভাড়াতেই লঞ্চ মালিকরা লোকসানে ছিলেন। যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়ায় সেই লোকসান আরও বেড়েছে। এর মধ্যে ডিজেলের দাম বাড়ায় পরিচালন ব্যয় আরও বেড়েছে।
নতুন ভাড়া অনুযায়ী, ঢাকা-বরিশাল রুটে ডেকের ভাড়া ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫০ টাকা করা হয়েছে। সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা। আর ডাবল কেবিনের ভাড়া ২ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
লঞ্চ মালিকদের সূত্র জানায়, নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাপ) সংস্থা। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট গোলাম নবী আলমগীর চিঠিটি দিয়েছেন।
চিঠিতে নৌযান পরিচালনার বিভিন্ন ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিআইডব্লিউটিএর বিভিন্ন ফি ও চার্জ ইতোমধ্যে বেড়েছে। কনজারভেন্সি চার্জ ৩০ শতাংশ, রুট পারমিট ফি ৫০ শতাংশ এবং বার্দিং চার্জ ১১৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া রুট পারমিটের আবেদন ফিও ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
নৌযানের বিশেষ অনুমতি, স্থগিত রুট পারমিট পুনর্বহাল এবং মালিকানা, নাম বা রেজিস্ট্রেশন পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন করে বিভিন্ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া শ্রমিকদের মজুরি, ডিজি শিপিংয়ের সার্ভে ও রেজিস্ট্রেশন ফি, নাম পরিবর্তন ফি এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর ও ভ্যাট বেড়েছে বলে দাবি করেছে লঞ্চ মালিকদের সংগঠনটি।
লঞ্চ নির্মাণ ও পরিচালনায় ব্যবহৃত প্লেট, অ্যাঙ্গেল, প্রপেলার, ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ, ওয়েল্ডিং রড, গ্যাস ও রংয়ের দামও বেড়েছে। ডকিং, স্পেয়ার পার্টসসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির ফলে যাত্রীরা সড়কপথে বেশি যাতায়াত করছেন। এতে লঞ্চগুলো ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী পাচ্ছে না এবং মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে ৪ টাকা ৪৫ পয়সা, ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ৪ টাকা ২ পয়সা এবং সর্বনিম্ন যাত্রীভাড়া ৩৫ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে বাড়তি ডিজেলের দাম প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. সলেমান বলেন, বরিশালের লঞ্চ মালিকরা ইতোমধ্যে ভাড়া বাড়িয়েছেন।
ডেকের ভাড়া ১৭ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তার ভাষ্য, লোকসানের কারণে লঞ্চ মালিকরা ভাড়া বাড়িয়েছেন। তবে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।