উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ বরিশালের উজিরপুরে চাঁদাবাজি, মারধর, পথরোধ, প্রাণনাশের চেষ্টা ও হুমকির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের জল্লা গ্রাম ও কারফা এলাকায় পরপর দুটি ঘটনায় দুইজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ছয়জনের বিরুদ্ধে উজিরপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জল্লা ইউনিয়নের জল্লা গ্রামের বাসিন্দা রমনি সরকার (৫৫) বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন। অভিযোগে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এতে তাদের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার...
উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ বরিশালের উজিরপুরে চাঁদাবাজি, মারধর, পথরোধ, প্রাণনাশের চেষ্টা ও হুমকির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের জল্লা গ্রাম ও কারফা এলাকায় পরপর দুটি ঘটনায় দুইজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ছয়জনের বিরুদ্ধে উজিরপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জল্লা ইউনিয়নের জল্লা গ্রামের বাসিন্দা রমনি সরকার (৫৫) বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন। অভিযোগে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এতে তাদের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি, মারধর, পথরোধ, লাঠি দিয়ে আঘাত, শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অভিযোগের এসব বিষয় তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা ও আইনগত দায় নির্ধারিত হবে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্তরা জল্লা গ্রামের বাদী রমনি সরকারের বসতঘরের সামনে গিয়ে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।
তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে প্রতিবাদ করায় তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও কিল-ঘুষি মারা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, পরদিন ২৭ সেপ্টেম্বর ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে উজিরপুর থানাধীন জল্লা ইউনিয়নের কারফা সাকিনে জনৈক দেবদাসের রাইস মিলের সামনে দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে। সেখানে যাওয়ার পথে সাক্ষীদের পথরোধ করে অভিযুক্তরা গালিগালাজ ও মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়। একপর্যায়ে ১ নম্বর অভিযুক্ত হাতে থাকা লাঠি দিয়ে ১ নম্বর সাক্ষীর মাথায় আঘাত করলে তার মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ হয় এবং তিনি গুরুতর আহত হন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার একপর্যায়ে আহত ব্যক্তিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তার চিৎকার ও স্থানীয়দের ডাক-চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরপর দুটি ঘটনার পর জল্লা ও কারফা এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে উজিরপুরের স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় অনেকেই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বলেও দাবি করেন তারা। স্থানীয়দের ভাষ্য, কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলে আইন নিজের হাতে না তুলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তার বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু চাঁদা দাবি, প্রকাশ্যে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির মতো অভিযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। তারা বলেন, একটি এলাকায় এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। তাই কোনো ধরনের প্রভাব বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে আহতদের যথাযথ চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, **শুধু গ্রেপ্তার নয়, তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঘটনাটির তদন্ত দ্রুত, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্তভাবে সম্পন্ন হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে চাঁদাবাজি, হামলা ও ভয়ভীতির মতো অভিযোগ যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চান এলাকাবাসী।