মো.আরিফুল ইসলাম, বাউফল(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে একটি ‘ছ’ মিলে গত ৪মাস আগে নতুন মিটার স্থাপন করে পল্লি বিদ্যুৎ। গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিগত ৩ মাসের বিদ্যুৎ বিল ইস্যু হয় ২৫হাজার টাকা। মিলটি অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকার কারণে সন্দেহ হয় মিল মালিক আবু হানিফের। অফিসে যোগাযোগ করা হলে, যা বিল তাই জমা দিতে নির্দেশ দেন কতৃপক্ষ।
সন্দেহ হওয়ায় সাংবাদিকের স্মরনাপন্ন হন তিনি। চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে কর্মকর্তা হিসেব দিতে গিয়ে জানান নির্ধারিত মাসের বিলের চেয়ে আরও প্রায় ৬শত ইউনিটের অতিরিক্ত বিল করা হয়েছে। পরে ভুল স্বীকার করে পরবর্তী মাসের বিলের সাথে সমন্বয় করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন। এখন প্রশ্ন আসে এরকম বিল প্রতিমাসে কতজনে পরিশোধ করেন? আর এই অতিরিক্ত বিল কার পকেটে যায়?
নাঈম তালুকদার। পল্লি বিদ্যুতের আরও একজন গ্রাহক। তার বাসার আগষ্ট/২৬ মাসের বিদ্যুৎ বিল আসে ৪২০টাকা। তিনিও সাংবাদিকের স্মরনাপ্ন হন। গত ১৯সালের নভেম্বর মাসের পরিশোধ করা আরও এটি বিল সংযুক্ত করে মোট ৬১৫টাকা বিল ইস্যু করেন পল্লিবিদ্যুৎ। অথচ ১৯সালের ওই বিল ছিল ৫৫৭টাকা। ৪২০ এবং ৫৫৭ যোগ করলে ৯৭৭টাকা হওয়ার কথা।
কিন্তু ১৯৫টাকা বাড়িয়ে বিল করেন ৬১৫টাকা। যা গ্রাহকের নজরে আসার কথা নয়। কিন্তু একই ভাবে চ্যালেঞ্জ করেন গ্রাহক। অনেক খোজাখুজির পরে আগের বছরের পরিশোধিত বিলের কপি খুজে পেয়ে বিল কাগজ নিয়ে অফিসে যোগাযোগ করা হলে ভুল স্বীকার করে ওই মাসের বিল ৪২০টাকা পরিশোধ করে মুক্ত হন নাঈম। প্রশ্ন, পরিশোধ করা বিলে কাগজ খুজে না পেলে তাকেও গুনতে হতো ১৯সালের ওই বিলের টাকা।
এই চিত্র শুধু ২জনের নয় পুরো উপজেলার একই চিত্র। প্রশ্ন, চ্যালেঞ্জ না করে বিল পরিশোধ করলে ওই অতিরিক্ত টাকা কার পকেটে যেত? আর যারা চ্যালেঞ্জ না করে বিল পরিশোধ করেন তাদের টাকা কার পকেটে এমন প্রশ্ন সকল গ্রাহকের। উপজেলার প্রতিটি গ্রাহকের কম-বেশি অভিযোগ পল্লিবিদ্যুতের বিরুদ্ধে।
কামরুল হাসান নামের অপর এক গ্রাহক জানিয়েছেন, তিনি একটি ভাড়া দোকানে ২০২১ সাল থেকে ব্যবসা করে আসছেন। হঠাৎ গত মাসের বিলের সাথে ২০১৬ সালের ৫হাজার ৯শত টাকার একটি বিল মূল বিলের সাথে যোগ হয়।
বিদ্যুত কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ওই বিল পরিশোধ করতে নির্দেশ দেন। অন্যথায় মিটার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেন তাকে। এঘটনায় বাউফল পল্লি বিদ্যুতের ডিজিএম এর কাছে মৌখিক ভাবে আবেদন জানালে তিনি বলেন, ‘পুরো টাকা পরিশোধ করতে হবে। কোন কথা হবে না। আপনি যা পারেন বাহিরে গিয়ে করেন বলে হুমকি দেন ডিজিএম।’
মেহেদি হাসান নামের অপর এক গ্রাহক বলেন, এনালক মিটারে তেমন কোন সমস্যা ছিল না। ডিজিটাল মিটার আসার পরই সমস্যা ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
জিএম মশিউর রহমান মিলন নামের অপর এক গ্রাহক জানান, তার নিজের বসত বাড়ির একই মিটারে এক মাসে ২টি বিল ইস্যু হয়। তিনি না দেখে ওই বিল ২টি একই সাথে পরিশোধ করেন। পরে বিল ২টি মিলিয়ে দেখেন একই বিল ২বার করা হয়েছে। অফিসের সাথে যোগাযোগ করলে তারা পরবর্তী মাসের বিলের সাথে সমন্বয় করা হবে বলে প্রতিশ্রুত দিলেও গত ৪মাসেও তা সমন্বয় করা হয়নি।
এভাবেই মিটারের ডিজিটাল চুরির মস্মুখিন হতে হচ্ছে উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রাহককে। কম বেশি প্রায় সকল গ্রহাকের অভিযোগের আঙ্গুল পল্লি বিদ্যুতের দিকে।
পল্লি বিদ্যুতের তথ্যমতে, উপজেলায় মোট গ্রাহক সংখ্যা ৭৫হাজার ৩৯জন। উপজেলায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা ১৬-২০ মেগাওয়াট। সরবরাহ হচ্ছে সাড়ে ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০ মেগাওয়াট। বেশিরভাগ সময় লোডসেডিং থাকছে উপজেলা জুড়ে।
গ্রাহকদের দাবি এত সময় লোডসেডিং থাকার পরেও এত বিল কিভাবে আসে? আগে নিয়মিত বিদ্যুৎ থাকার পরে যে বিল আসতো এখন তার চেয়ে দেড়গুন বা ২গুনের বেশি বিল আসছে।
এবিষয়ে বাউফল পল্লিবিদ্যুত সমিতির ডিজিএম আজিজুল ইসলাম সাংবাদিককে বলেন, ‘বক্তব্য তো আমরা দিতে পাড়ি না অনুমতি ছাড়া। কোন বিষয়ে জানার থাকলে আমাকে লিখিতভাবে জানান। আমি উপরস্থ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে আপনার লিখিত অভিযোগের জবাব দেব।’
পটুয়াখালী পল্লিবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আবুল কাশেম বলেন, ‘কোন বিল ভুল হলে সাথে সাথে সংশোধন করে সঠিক বিল করার কথা। বিলের কপি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসে আসতে বলেন সংশোধন করে দেয়া হবে।’
অতিরিক্ত বিল কার পকেটে যায় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যদি ভুলবশত এরকম হয়ে থাকে তবে বিলের টাকা গ্রাহকের নিজের একাউন্টে জমা থাকছে। ১৬ সালের বিল কিভাবে ২৬সালের অক্টোবর মাসে বিলের সাথে যোগ হয়। এত বছর কেন বিল না এসে ১০বছর পর বিল আকারে আসে/ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আসলে না দেখে বলা যাবে না। কারও অতিরিক্ত কোন বিল আসছে না। কোন বিল সন্দেহ থাকলে অফিসে যোগাযোগ করা হলে ঠিক করে দেয়া হবে।’