নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরগুনার পাথরঘাটায় মাছ ধরার ট্রলার ধোয়া-মোছা ও মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে খালে পড়ে মো. দেলোয়ার হোসেন (৫০) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই জেলে। তাদের মধ্যে মো. বাচ্চু নামে একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বাদুরতলা নামক এলাকা সংলগ্ন একটি খালে এ ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাগরে মাছ ধরার ওপর চলমান ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে এফবি সিমা-৩ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার ধোয়া-মোছা ও মেরামতের কাজ করছিলেন জেলেরা।
এ জন্য খালের তীর থেকে বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়ে ট্রলারটিতে কাজ শুরু করেন তারা। কাজ চলাকালে পাশ দিয়ে অন্য একটি ট্রলার যাওয়ার সময় সৃষ্ট ঢেউয়ের ধাক্কায় ট্রলারটিতে থাকা কয়েকজন জেলে বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় অন্য জেলেরা ট্রলারের ওপর থাকলেও দেলোয়ার খালে পড়ে নিখোঁজ হন।
পরে স্থানীয়রা তাকে খুঁজতে শুরু করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে পাথরঘাটা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় খাল থেকে দেলোয়ারের মরদেহ উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় আহত বাচ্চু ও রুহুলকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অপর জেলে মো. রুহুল কিছুটা সুস্থ হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে যায় স্বজনরা।
ট্রলারটির মাঝি মো. জয়নাল আবেদীন জানান, নিষেধাজ্ঞার সময়ে ট্রলারটি ডকইয়ার্ডে ছিল। সেখান থেকে নামানোর পর ধোয়া-মোছা ও টুকিটাকি মেরামতের জন্য বৃহস্পতিবার সকালে জেলেদের আসতে বলা হয়।
সকাল ১০টার পর তারা কাজ শুরু করেন। হঠাৎ দুর্ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দেলোয়ার খালে পড়ে যান। পরে খোঁজাখুঁজি করে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়। তারা এসে দেলোয়ারকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় খাল থেকে মোঃ দেলোয়ার হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ট্রলার মেরামত ও ধোয়া-মোছার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে খালে পড়ে ডুবে গিয়ে ওই জেলের মৃত্যু হয়েছে।