নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ভিসিবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনায় দুমকি উপজেলা বিএনপির আরও দুই নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৮ মে) পটুয়াখালী জেলা বিএনপির প্যাডে প্রকাশিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। অব্যাহতি পাওয়া নেতারা হলেন— দুমকি উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. জসিম উদ্দিন হাওলাদার ও মো. মতিউর রহমান।
জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটনের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, পবিপ্রবিতে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং তাদের নিজস্ব বক্তব্যে উঠে এসেছে। দলীয় শৃঙ্খলা ও সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে তাদের সদস্য পদসহ সব সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে একই ঘটনায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আরও কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন— দুমকি উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ বশির উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান ফারুক ও সুলতান শওকত হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুসা ফরাজী এবং কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম মীর ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল ওহাব। এছাড়া সাবেক যুবদল নেতা রিপন শরীফসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে গত ১১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. মুকিত মিয়া বাদী হয়ে ২৬ জনের নাম উল্লেখ করেন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় ইতোমধ্যে উপজেলা ছাত্রদল নেতা গোলাম কিবরিয়া ও কৃষক দল নেতা মর্তুজা বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। দুমকি থানার ওসি সেলিম উদ্দিন জানান, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।