ঝালকাঠি জেলা সংবাদদাতা: ঝালকাঠি সদর উপজেলার শাহ্ মাহমুদিয়া কলেজ অধ্যক্ষকে অপসারণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ১ নং গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রিয়াছুল আমীন জামাল সিকদার ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
১৮ মে সোমবার সকালে শাহ মাহমুদিয়া কলেজ ক্যাম্পাসে লিখিত সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, শাহ্ মাহমুদিয়া কলেজ একসময স্বনামধন্য ও প্রতিষ্ঠিত কলেজ হিসেবে আত্মপ্রকাশ পায়। বর্তমান অধ্যক্ষ নুরুল আমিন নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই কলেজটি আস্তে-ধীরে ধ্বংসের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
অধ্যক্ষের নিয়মিত কলেজে উপস্থিতি ও সঠিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা ছিল না। তিনি ব্যস্ত থাকতো নিজের মুরগির ফার্ম, মাছের চাষ আর কৃষি কাজ নিয়ে। তিনি কলেজে আসতো আর হাজিরা দিয়ে চলে যেত এবং কলেজের তহবিল তছরুপ নিয়ে ব্যস্ত থাকতো।
দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের কিছু দুর্নীতির বিষয় তুলে ধরা হলো- ১। কলেজের কোনো অর্থ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে হিসাব মিলিয়ে নেয়। কোন ভাউচারই অর্থকমিটির অনুমোদন থাকে না। এমনকি কোনো অর্থকমিটি গঠন করে না।
অধ্যক্ষ নিজেই ভাউচার অনুমোদন করে দেয়, যাতে ভাউচারের সত্যতা যাচাই না হয়। এমনকি বড় ভাউচারের কমিটির অনুমোদনের প্রায়োজন মনে করে না। ২। টিউশন ফি, যা শিক্ষকদের প্রাপ্য। কিন্তু সেই টিউশন ফি শিক্ষকদের মধ্যে বন্টন না করে মনগড়া ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করে নেয়।প্রশাসনিক ভয়ে শিক্ষকরা প্রতিবাদ করতে পারে না।
৩। পরীক্ষা দপ্তরের আয়-ব্যয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ অফিস খরচ দেখিয়ে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে সমন্বয় করে নিয়ে নেয় যার কোন অনুমোদন থাকে না। ৪। কলেজের পিছনে এবং রাস্তারপাশের গাছ কমিটির অনুমোদন ছাড়া বিক্রি করে নিজের মতো করে ভাউচার করে আত্মসাৎ করে নেয়।
৫। মুল রাস্তা বর্ধিত করনের সময়ে বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে যায়। ফলে সেখানে আনুমানিক ৬ হাজার মতো ইট বের করে সড়িয়ে নেয়। ৬। পুরাতন একটি টিন শেড বিল্ডিং যা টেন্ডারের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে তার অর্থ আত্মসাৎ করে নেয়।
৭। কলেজের উন্নয়নে সীমা এন্টার প্রাইজের নামে টেন্ডারের মাধ্যমে ২০ লক্ষ টাকার একটি কাজ বরাদ্দ হয়, যা অধ্যক্ষের কথিত ভাগ্নে প্রাপ্ত দরদাতাকে করতে না দিয়ে নিজে জোরজবরদস্তি করে লুফে নেয়। সেখান থেকে অধ্যক্ষ সুবিধা নেওযায় নিম্নমানের কাজ হচ্ছে, যে কাজ এখনো চলমান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কলেজ অধ্যক্ষ নুরুল আমিন সাংবাদিকদের জানান, আমার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক নয় এবং এগুলো ভুয়া অভিযোগ। আসল বিষয় হলো কলেজ ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।