নিজস্ব প্রতিবেদক : শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী ছারছীনা দরবার শরীফে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ১৩৫তম ঈছালে ছাওয়াব মাহফিল ও বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহ সম্মেলন। সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে।
আজ শুক্রবার বাদ মাগরিব হযরত পীর সাহেবের জিকিরের তা’লীম ও উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে মাহফিলের কার্যক্রম। আগামী সোমবার বাদ জোহর অনুষ্ঠিত হবে আখেরী বয়ান ও মোনাজাত।
প্রতিবছরের মতো এবারও দেশ-বিদেশের লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, পীর ভাই, মুহিব্বীন এবং ওলামায়ে কেরাম মাহফিলে অংশ নিতে ছারছীনা দরবারে সমবেত হচ্ছেন। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রিজার্ভ লঞ্চ, বাস, ট্রাক, ট্রলারসহ বিভিন্ন যানবাহনে মুসল্লিদের আগমন শুরু হয়েছে।
মাহফিলের নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, ট্রাফিক পুলিশ এবং মেডিকেল টিম মাঠে কাজ করছে। পাশাপাশি দরবার শরীফের পক্ষ থেকে মাদরাসার ছাত্ররা খাস ফরিক, সেবা বিভাগ, হারানো মাল বিভাগ ও পার্কিং ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত রয়েছে। পুরো এলাকাজুড়ে ইতোমধ্যেই উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
এবারের মাহফিল এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, অস্থিরতা ও হতাশার ছায়া গভীরতর। তাই ওলামায়ে কেরাম মাহফিলে যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নৈতিক পুনর্জাগরণ, আত্মশুদ্ধি, দায়িত্ববোধ ও সঠিক পথের দিকনির্দেশনামূলক গুরুত্বপূর্ণ বয়ান প্রদান করবেন বলে জানা গেছে। মাহফিলকে কেন্দ্র করে আগত মুসল্লিদের সুবিধার কথাও বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। থাকা-খাওয়া, অজু-গোসল, বিশুদ্ধ পানীয় জল, বিশ্রাম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
শেষ দিন বাদ জোহর অনুষ্ঠিত হবে আখেরী বয়ান ও মোনাজাত। দেশ, জাতি ও মানবসমাজের শান্তি, নৈতিক জাগরণ এবং আলোকিত জীবনের প্রার্থনায় এ আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করবেন বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর আমির ও ছারছীনা দরবারের পীর, হজরত মাওলানা শাহ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমাদ হুসাইন। বহু প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক আয়োজন এবারও শান্তি, মানবিকতা ও আত্মশুদ্ধির বার্তা ছড়িয়ে দেবে—এমনটাই প্রত্যাশা আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের।