ইসলাম ডেস্ক : রমযান মাসকে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত—এই তিন ভাগে বিভক্ত করে থাকেন ইসলামী আলেমরা। এর মধ্যে প্রথম ১০ দিনকে বলা হয় রহমতের সময়। এই সময়ে আল্লাহ তাআলার বিশেষ দয়া ও অনুগ্রহ বান্দাদের ওপর নাজিল হয় বলে ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন। তাই রমযানের শুরু থেকেই আমলের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আলেমদের মতে, প্রথম ১০ দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো আন্তরিক তওবা ও আল্লাহর রহমত কামনা করা। নিজের ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং নিয়মিত দোয়া করা একজন মুসলমানের আত্মশুদ্ধির পথ সহজ করে। বিশেষ করে ইফতারের আগে ও শেষ রাতে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা বেশি থাকে বলে তারা জানান।
এছাড়া পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায়, নামাজের পর জিকির এবং নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত শুরু করাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়। অনেকেই রমযানের মাঝামাঝি সময় থেকে আমল শুরু করেন, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে শুরু থেকেই ধারাবাহিকতা তৈরি করতে পারলে পুরো মাসজুড়ে ইবাদত বজায় রাখা সহজ হয়।
দান-সদকা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোও এই সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল। দরিদ্র ও অসহায়দের সাহায্য করা, কাউকে ইফতার করানো কিংবা ছোট কোনো ভালো কাজও আল্লাহর কাছে বড় সওয়াবের কারণ হতে পারে।
ধর্মীয় চিন্তাবিদদের মতে, রমযানের প্রথম ১০ দিন যদি সচেতনভাবে ইবাদত, ধৈর্য ও আত্মসংযমের মাধ্যমে কাটানো যায়, তাহলে তা পুরো রমযানকে অর্থবহ করে তোলে এবং একজন মানুষের আত্মিক পরিবর্তনের পথ খুলে দেয়।