1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
দুই মাস পর জেলেপাড়ায় স্বস্তির হাসি - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
লালমোহনে ৪ কেজি গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক মধ্য ভূতেরদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হলেন বেল্লাল হোসেন বাবুগঞ্জে রিকশা-ভ্যান ও ঠেলাগাড়ি শ্রমিক ইউনিয়নের আইডি কার্ড বিতরণ কাঠালিয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে যুবক আহত, অভিযুক্ত আটক কাঠালিয়ায় ৯ মাসের শিশুকে বিক্রির অভিযোগ, বাবা-মায়ের দাবি ‘লালন-পালনের জন্য প্রদান’ প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে ঢুকে পড়ায় বাবুগঞ্জের মুবিন মাঝি আটক বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা ও  বিটিভির সাবেক অনুষ্ঠান সহযোগীর জামায়াতে যোগদান মহিলা ও শিশুবিষয়ক  মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি হলেন সেলিমার রহমান বাবুগঞ্জে বিএনপি নেতার হামলায় বৃদ্ধ আহত দাদার সম্পত্তি লিখে নিয়ে উধাও নাতি, বিপাকে বৃদ্ধ দম্পতি

দুই মাস পর জেলেপাড়ায় স্বস্তির হাসি

  • আপডেট সময় : সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণের সুযোগ পাচ্ছেন উপকূলীয় জেলেরা। কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম সংরক্ষণে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে বন বিভাগ সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ ও জেলেদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় ১ মার্চ থেকে বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে জেলেরা পুনরায় সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারছেন।

 

দুই মাসের কর্মবিরতির পর উপকূলজুড়ে এখন ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য। নৌকা মেরামত, জাল প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গুছিয়ে নতুন আশায় আবার নদী ও খালে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা।

 

বন বিভাগের তথ্যমতে, বাংলাদেশের অংশে সুন্দরবনের মোট আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৭৪ দশমিক ১ বর্গকিলোমিটার জলভাগ। যা মোট আয়তনের প্রায় ৩১ দশমিক ১৫ শতাংশ। এ জলভাগে রয়েছে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি এবং ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া।

 

জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি কাঁকড়ার প্রধান প্রজনন মৌসুম হওয়ায় ৫৯ দিনের জন্য কাঁকড়া ধরা বন্ধ রাখা হয়।

 

বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানান, এ সময় কাঁকড়া নদী ও খালে ডিম পাড়ে এবং নতুন প্রজন্মের জন্ম হয়। প্রজননকালীন সময়ে আহরণ অব্যাহত থাকলে কাঁকড়ার সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি পুরো বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়।

 

সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান জানান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে কাঁকড়া আহরণের অভিযোগে অন্তত ২৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বন আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

 

দুই মাস নদী ও বনে যেতে না পারায় উপকূলীয় বহু জেলে পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করেছে। আয় বন্ধ থাকায় অনেকেই বিকল্প কাজের সন্ধানে অন্য জেলায় চলে যান। কেউ কেউ পরিবার চালাতে বাধ্য হয়েছেন মহাজনি সুদে ঋণ নিতে। এ অবস্থা গোটা সুন্দরবন লাগোয়া খুলনার কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি, বাগেরহাটের শরণখোলা, রামপাল, মংলার জেলে পল্লীর চিত্র। বিশেষ করে যারা সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণের উপর জীবীকা নির্বাহ করে।

 

খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর এলাকার জেলে নৃপেন মন্ডল বলেন, দুই মাস বসে থাকতে হয়েছে। সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে গিয়েছিল। এবার ভালো কাঁকড়া পেলে আগের লোকসান পুষিয়ে দাঁড়াতে পারব।

 

স্থানীয়রা বলছেন, সুন্দরবনের কাঁকড়া দেশের রপ্তানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে জীবিত কাঁকড়ার আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বেশি। ফলে কাঁকড়া আহরণ শুধু জেলেদের জীবিকা নয়, জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

 

বন বিভাগ বলছে, প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা মানা হলে ভবিষ্যতে কাঁকড়ার উৎপাদন বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে জেলেদের আয়ও স্থিতিশীল হবে।

 

দুই মাসের অপেক্ষা শেষে তাই সুন্দরবনঘেঁষা জনপদে এখন নতুন আশার বাতাস বইছে। নদীপাড়ের জেলেপাড়াগুলো আবার আনন্দ মুখর হয়ে উঠেছে।

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network